নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় পুকুরে সেচ দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাজমুল হাসান সোহেল (২৬) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরের দিকে ঘটা এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত নাজমুল হাসান সোহেল উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের উত্তর বাদে কনুড়া গ্রামের আলতু মিয়া ও সখিনা আক্তার দম্পতির সন্তান।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে সোহেল বাড়ির পাশের পুকুরে সেচ পাম্পের সাহায্যে পানি নিষ্কাশন করে মাছ ধরার কাজ করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পুকুরে পুনরায় পানি জমে গেলে তিনি সেচ মেশিনটি নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নেন। এ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গেলে অসাবধানতাবশত লিকেজযুক্ত (ছিদ্র থাকা) বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে আসেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তীব্র ঝাঁকুনিতে তিনি ছিটকে পুকুরের পানিতে পড়ে যান।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সময় সোহেলের আর্তচিৎকার শুনতে পান পাশেই থাকা তার ভাই ফেরদৌস। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি কালক্ষেপণ না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে দেন। এরপর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুকুরের পানি থেকে অচেতন অবস্থায় সোহেলকে উদ্ধার করা হয়।
তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় দ্রুত কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইয়াসির হাবিব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সোহেলকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি দুর্ঘটনা হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।