বহু যুগ ধরে ঘরোয়া চিকিৎসারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলুদ © ফাইল ছবি
বাঙালির রান্নাঘরে হলুদ একটি সহজলভ্য মসলা। এটি ছাড়া তরকারি জমেই না। তবে এই হলুদ শুধু একটি মসলা নয়, এটি বহু যুগ ধরে ঘরোয়া চিকিৎসারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোটখাটো সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ত্বকের যত্ন সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বেশ পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে খালি পেটে সামান্য কাঁচা হলুদ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে কাঁচা হলুদের মধ্যে থাকা ‘কারকিউমিন’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
করোনাকালের পর চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর জোর দেন। সেই তালিকায় অন্যতম ছিল এই কাঁচা হলুদ। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে এটি খেলে শরীরের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সাহায্য করে।
একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, কাঁচা হলুদই বেশি উপকারী। বাজারের যেসব গুঁড়ো হলুদ পাওয়া যায়, তা অনেক সময় ভেজাল বা ক্ষতিকর রং মেশানো থাকতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই নিরাপদ ও তাজা কাঁচা হলুদ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
দিনে কতটা কাঁচা হলুদ খাওয়া উচিত?
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন প্রায় ২৫০ মিলিগ্রাম কাঁচা হলুদ শরীরের জন্য যথেষ্ট। সকালে খালি পেটে অল্প পরিমাণ কাঁচা হলুদ খাওয়ার পর অন্তত আধাঘণ্টা কিছু না খাওয়াই ভালো। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে হলুদ মিশ্রিত দুধও পান করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত হলুদ খেলে উল্টো গ্যাস্ট্রিক, বমিভাব বা লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কাঁচা হলুদের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এটি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। হলুদের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করে। মৌসুমি জ্বর, ঠান্ডা কিংবা ভাইরাসজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতেও এটি কার্যকর বলে মনে করা হয়।
গ্যাস্ট্রিক কমাতে সাহায্য করে
যারা প্রায়ই গ্যাস, অম্বল বা বদহজমের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য কাঁচা হলুদ উপকারী হতে পারে। এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে হজমশক্তিও উন্নত হতে পারে।
মস্তিষ্ককে রাখে সক্রিয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা হলুদ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। হলুদের কারকিউমিন মস্তিষ্কের কোষকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে
কাঁচা হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে কাঁচা হলুদ খেলে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদের কারকিউমিন কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও এটি ক্যানসারের ওষুধ নয়, তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কাঁচা হলুদ শরীরকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক হতে পারে।
আরও পড়ুন: ইবোলা আতঙ্কে ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা, কতটা ভয়াবহ এ ভাইরাস?
আর্থারাইটিস ও বয়সজনিত সমস্যা কমায়
যাদের জয়েন্টে ব্যথা বা আর্থারাইটিসের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য কাঁচা হলুদ কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। এর প্রদাহরোধী উপাদান শরীরের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যে নানা ধরনের দুর্বলতা দেখা দেয়, সেগুলোর প্রভাব কমাতেও হলুদ উপকারী হতে পারে।
কীভাবে খাবেন কাঁচা হলুদ?
অনেকে সরাসরি কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খেতে পারেন না। সেক্ষেত্রে এটি ছোট ছোট টুকরো করে মধুর সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। আবার ফলের জুস, স্মুদি বা গরম স্যুপের সঙ্গেও মিশিয়ে খাওয়া যায়। কেউ কেউ লেবু ও মধুর সঙ্গে কাঁচা হলুদের মিশ্রণও খেয়ে থাকেন।
সতর্কতা
যাদের পিত্তথলির সমস্যা, কিডনিতে পাথর বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত হলুদ খাওয়া উচিত নয়। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। (সূত্র: এই সময়)