সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই পানি পান করেন © সংগৃহীত
সারারাত ঘুমের পর সকালে ঘুম ভাঙতেই শরীর কিছুটা পানিশূন্য অবস্থায় থাকে। তাই দিনের শুরুতে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাসকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কেউ কেউ মনে করেন, এটি শরীরকে দ্রুত চাঙা করে, হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখে সেইসাথে শরীরের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। তবে এই অভ্যাসের প্রকৃত উপকারিতা কী, কারা এতে বেশি উপকৃত হতে পারেন?
ভারতীয় পুষ্টিবিদের মতে, ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীর শুষ্ক হয়ে যায়। সকালে চোখ খোলার পরেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে দেহের তরলের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থায় আসে। এর ফলে ব্রেন ফগের সমস্যা কমে। ছোটদের ক্ষেত্রে স্কুলে যাওয়ার আগেই মনোযোগের ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ঘুমের সময় শরীরে কী হয়, জানেন?
ঘুমের মধ্যে কোনও খাবার বা পানীয় শরীরে যায় না। কিন্তু শরীর তা-ও তার কাজ চালিয়ে যায়। শ্বাস নেওয়া, শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ, শরীরের ভিতর থেকে দূষিত পদার্থ বার করা—সব কাজ নিজের গতিতেই চলতেই থাকে। এসব কাজের জন্য শরীর থেকে পানি বার হয়। ফলে সকালে ওঠার পর শরীর শুষ্ক অবস্থায় থাকে। তখন পানি না খেলে ক্লান্তি, মাথা ভার বা আলস্য দেখা দিতে পারে।
সকালে পানি খাওয়ার উপকারিতা
শরীরের ঘাটতি পূরণ করে, হজমক্রিয়ায় সাহায্য করে, শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে, মন ও শরীর সতেজ হয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ও অন্ত্রের কাজ উন্নত করে।
আরও পড়ুন: লিভার সুস্থ রাখতে সকালে খালি পেটে যেসব পানীয় উপকারী
সতর্কতা
সবার জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পানের এ অভ্যাস একরকম উপকারী নাও হতে পারে। যাদের গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি বা বমিভাবের সমস্যা আছে, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বেশি পানি পান অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে পানি পান করাই ভালো।
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক থেকে দুই গ্লাস স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করাই যথেষ্ট। সব মিলিয়ে বলা যায়, সঠিক নিয়ম মেনে সকালে পানি পান একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তবে নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে ভালো।