খাবারের আগে বা খাওয়ার সময় বারবার পানি পান করেন অনেকে © এআই সৃষ্ট ছবি
ওজন কমাতে অনেকেই খাবারের আগে বা খাওয়ার সময় বারবার পানি পান করেন। অনেকের ধারণা এতে দ্রুত পেট ভরে যায় এবং খাবারও কম খাওয়া হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি ও পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নতুন এক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা।
তাদের মতে, খাবারের ফাঁকে ফাঁকে পানি পান করলে উল্টো খাবারের পরিমাণ বাড়তে পারে। গবেষকদের মতে, পানি পেট ভরিয়ে রাখার চেয়ে বরং খাওয়াকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করে তোলে। সম্প্রতি পুষ্টিবিজ্ঞানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী অ্যাপেটাইট-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় ৮৬ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে আগে পরিচালিত দুটি র্যান্ডমাইজড ক্রসওভার পরীক্ষার তথ্য পুনর্বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের ইচ্ছামতো খাওয়ার জন্য ৬৫০ গ্রাম বিফ চিলি অথবা চিকেন টিক্কা মাসালা এবং ৪৫০ গ্রাম পানি দেওয়া হয়।
পুরো খাওয়ার সময় ভিডিও ধারণ করে গবেষকেরা কতবার পানি পান করা হয়েছে, প্রতিবার কতটা পানি পান করা হয়েছে, কী গতিতে পানি পান করা হয়েছে এবং খাবারের লোকমা ও পানির চুমুকের মধ্যে কতবার অদলবদল হয়েছে- এসব বিষয় বিশ্লেষণ করেন।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যাঁরা বেশি পানি পান করেছেন, তাঁরা গড়ে বেশি খাবারও খেয়েছেন। একইভাবে খাবারের লোকমা ও পানির চুমুকের মধ্যে যত বেশি অদলবদল হয়েছে, খাবারের পরিমাণও তত বেড়েছে।
অন্য খবর: ঢাবিতে আওয়ামী লীগপন্থী ১০ শিক্ষকের শাস্তি প্রত্যাহার চায় শিক্ষক সমিতি
গবেষকেরা একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, খাবারের ঝালের মাত্রা বাড়লে মানুষের খাওয়ার গতি কমে এবং মোট খাবার গ্রহণও কমে যায়। কিন্তু এই প্রভাবের সঙ্গে পানি পান বা পানি পানের ধরন উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ড. পেজ এম. কানিংহাম বলেন, এই ফলাফল দীর্ঘদিনের প্রচলিত সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। যেখানে বলা হয়, খাবারের সময় পানি পান করলে ক্ষুধা কমে এবং কম খাওয়া হয়। তাঁদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাস্তবে মানুষ বেশি পানি পান করলে এবং খাবার ও পানির মধ্যে বারবার অদলবদল করলে উল্টো বেশি খাবার গ্রহণের প্রবণতা দেখা যায়।
গবেষকেরা আরেকটি বিষয়ও স্পষ্ট করেছেন যে, এটি আগের দুটি গবেষণার তথ্যের পুনর্বিশ্লেষণ। তাই এখান থেকে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অর্থাৎ পানি পানই যে বেশি খাওয়ার একমাত্র কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চূড়ান্ত সুযোগ নেই। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। (সূত্র: অ্যাপেটাইট)