জার্সির সামনের বেটিং কোম্পানির লোগো © সংগৃহীত
২০২৬-২৭ মৌসুম থেকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাবই আর তাদের ম্যাচের জার্সির সামনের অংশে বেটিং কোম্পানি বা অনলাইন ক্যাসিনোর স্পনসর ব্যবহার করতে পারবে না। জুয়ায় আসক্তি বা লুডোম্যানিয়ার ঝুঁকি কমাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবল লিগ।
বর্তমানে বিশ্বের ফুটবলে বেটিং কোম্পানিগুলোর প্রভাব অনেক বেড়েছে। শত শত পেশাদার ক্লাবের জার্সিতে তাদের লোগো দেখা যায়। শুধু জার্সিতেই নয়, টেলিভিশনে ম্যাচ সম্প্রচারেও এসব প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন নিয়মিত প্রচার করা হয়। তবে জুয়ায় আসক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই নতুন মৌসুম শুরুর আগে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রিমিয়ার লিগ।
আগামী ২১ আগস্ট বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল ও চ্যাম্পিয়নশিপের চ্যাম্পিয়ন কোভেন্ট্রি সিটির ম্যাচ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু হবে। সেই মৌসুম থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের প্রথম বিভাগের কোনো ক্লাব তাদের অফিসিয়াল জার্সির সামনের অংশে বেটিং কোম্পানি বা অনলাইন ক্যাসিনোকে প্রধান স্পনসর হিসেবে রাখতে পারবে না।
গত কয়েক বছরে প্রিমিয়ার লিগে বেটিং কোম্পানির স্পনসরশিপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ২০টি ক্লাবের মধ্যে ১১টির জার্সির সামনের অংশে বেটিং প্রতিষ্ঠানের লোগো ছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া হয়নি। প্রায় তিন বছর আগেই বিষয়টি নিয়ে ক্লাবগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল।
২০২৩ সালে প্রিমিয়ার লিগ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ক্লাবগুলো ম্যাচের জার্সির সামনের অংশ থেকে বেটিং প্রতিষ্ঠানের স্পনসর সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ক্রীড়াঙ্গনে এটিই প্রথম এমন সিদ্ধান্ত।’
তখনই জানানো হয়েছিল, ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষ হওয়ার পর নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। এর উদ্দেশ্য ছিল, ক্লাবগুলো যেন বিদ্যমান স্পনসরশিপ চুক্তিগুলো নির্ধারিত সময় পর্যন্ত নির্বিঘ্নে শেষ করতে পারে।
তবে বেটিং কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন পুরোপুরি নিষিদ্ধ হচ্ছে না। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তারা জার্সির হাতায় স্পনসর হিসেবে থাকতে পারবে। এছাড়া স্টেডিয়ামের বিজ্ঞাপন বোর্ড এবং ক্লাবগুলোর বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তাদের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে।
ফলে বেটিং কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি পুরোপুরি শেষ না হলেও আগের তুলনায় অনেক কমে যাবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতের নতুন প্রতিষ্ঠান স্পনসর হওয়ার সুযোগ পাবে।
এই পরিবর্তনের ফলে আগামী মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের জার্সিতে মোট নয়টি ভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব থাকবে, যেখানে গত মৌসুমে ছিল সাতটি।
নতুন মৌসুমে সবচেয়ে বেশি স্পনসর থাকবে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর। পাঁচটি ক্লাবের জার্সিতে এই খাতের প্রতিষ্ঠানের লোগো দেখা যাবে। এরপর রয়েছে বিমান পরিবহন খাত, যাদের স্পনসর থাকবে তিনটি ক্লাবে। প্রযুক্তি এবং খাদ্যপণ্য খাতের প্রতিষ্ঠান দুটি করে ক্লাবের স্পনসর হবে। এছাড়া মানবসম্পদ, টেলিযোগাযোগ, বীমা, সফটওয়্যার এবং পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর স্পনসর হিসেবে যুক্ত থাকবে।