বুর্কিনা ফাসোকে নিয়ে ছেলে খেলা আর্জেন্টিনার © সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বুর্কিনা ফাসোকে রীতিমতো গোলের বন্যায় ভাসিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৫ গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলা আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ৭-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। লাউতারো মার্তিনেস, জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি, নিকো পাস, হুলিয়ান আলভারেস ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোর পর যোগ করা সময়ে গোল করেন জুলিয়ানো সিমেওনে। একটি গোল আবার এসেছে বুর্কিনা ফাসোর আত্মঘাতী ভুলে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা আর্জেন্টিনা মাত্র চার মিনিটেই এগিয়ে যায়। পেনাল্টি থেকে পাওয়া সুযোগে গোলরক্ষকের ফিরিয়ে দেওয়া বল জালে পাঠান লাউতারো মার্তিনেস। চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ হয় আত্মঘাতী গোলে। জুলিয়ান আলভারেসের নেওয়া শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে বুর্কিনা ফাসোর মৌমুনে দিয়ালো বল নিজেদের জালে পাঠান।
এরপর গোলের ধারা আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ১২ মিনিটে জালে বল পাঠান জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি। ৩৫ মিনিটে নিকো পাস গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। এর এক মিনিট পরই জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানির পাস থেকে গোল করে প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনার পাঁচ গোল পূর্ণ করেন হুলিয়ান আলভারেস। ফলে বিরতিতে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকে লিওনেল স্কালোনির দল।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমেনি আর্জেন্টিনার। ৫৭ মিনিটে দারুণ এক গোল করে ব্যবধান ৬-০ করেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। এরপর বুর্কিনা ফাসো কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি তারা।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে, ৯০+৩ মিনিটে সপ্তম গোলটি করেন জুলিয়ানো সিমেওনে। তাতেই ৭-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে ছিল আর্জেন্টিনার একচ্ছত্র আধিপত্য। তারা বলের নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় এবং বুর্কিনা ফাসোর গোলমুখে ২৮টি শট নেয়, যার ১৬টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে আফ্রিকার দলটি মাত্র তিনটি শট নিতে পারে, যার একটি ছিল লক্ষ্যে।
এটি ছিল বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর কোর্দোবায় বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। এই জয়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে বেনিনের বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ। ওই ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে বিদায়ী উপস্থিতি হওয়ার কথা রয়েছে।