ইতালি ও ফ্রান্সের বল দখলের লড়াই © সংগৃহীত
জিনেদিন জিদানের কোচিংয়ে ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে ইতালির বিপক্ষে জয় পেল না ফ্রান্স। উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে মাইকেল ওলিসের গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করেছে স্বাগতিকরা। আলেস্সান্দ্রো বাস্তোনির গোলে সমতায় ফেরে ইতালি।
শুক্রবার রাতে ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। শেষ দিকে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছে ফ্রান্সকে। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে মোইজে কিনকে টেনে ধরায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দাইয়ু উপামেকানো।
এ ম্যাচে ফ্রান্সের এক পয়েন্ট হারানোর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল ইতালির গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মার। পুরো ম্যাচে সাতটি সেভ করেন তিনি। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে ইতালিকে ম্যাচে রাখেন এই গোলরক্ষক।
প্রথম দুই ম্যাচে ১-০ গোলে জয়ের পর এবারই প্রথম পয়েন্ট হারাল ফ্রান্স। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগের ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে তারা। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে তুরস্ককে ৩-০ গোলে হারানো বেলজিয়ামের পয়েন্ট ৬। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ইতালি। তুরস্ক এখনো কোনো পয়েন্ট পায়নি।
ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। গোলের জন্য ১৮টি শট নেয় তারা, যার আটটি ছিল লক্ষ্যে। ইতালি ১৪টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মাত্র দুটি।
শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করে ইতালি। নবম মিনিটে বাঁ দিক থেকে পাওয়া পাস দূরের পোস্টে ফাঁকায় পেয়েও গোল করতে পারেননি মোইজে কিন। তার শট ঠেকিয়ে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁ।
এরপর দুই দলই আক্রমণ চালালেও প্রথমার্ধে তেমন পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ৩৭তম মিনিটে ফ্রান্স প্রথমবারের মতো শট লক্ষ্যে রাখে। উসমান দেম্বেলের সেই প্রচেষ্টা সহজেই আটকে দেন দোন্নারুম্মা।
তিন মিনিট পর সুযোগ নষ্ট করেন ইতালির পিও এস্পোজিতো। ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে তার শট লক্ষ্যে থাকেনি। পরে কিন ফ্রান্সের জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
প্রথমার্ধে দুই দলই আটটি করে শট নেয়। এর মধ্যে একটি করে শট ছিল লক্ষ্যে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুর্দান্ত দুটি সেভ করে ইতালিকে রক্ষা করেন দোন্নারুম্মা। দেজিরে দুয়ের শট ঠেকানোর পর কাছ থেকে দেম্বেলের প্রচেষ্টাও ফিরিয়ে দেন তিনি। দুই মিনিট পর ওলিসের শটও আটকে দেন ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলরক্ষক।
তবে ৫৫তম মিনিটে আর ফ্রান্সকে থামাতে পারেননি তিনি। ডি-বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক থেকে রায়ান শের্কি পা দিয়ে বল একটু সামনে বাড়িয়ে দেন। এরপর বুলেট গতির শটে গোল করেন ওলিসে। তার শটে নড়ারও সুযোগ পাননি দোন্নারুম্মা।
তবে ১৩ মিনিট পরই সমতায় ফেরে ইতালি। বক্সের বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান লুকা দা কুইয়া। সেই সুযোগে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বাস্তোনি।
এরপর জয়সূচক গোলের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। কিন্তু দোন্নারুম্মা আরও দুটি দুর্দান্ত সেভ করে আদ্রিয়াঁ রাবিও ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার শট ঠেকিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।