সুষম খাদ্যের প্রতীকি ছবি © এআই সম্পাদিত ছবি
শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশ, শেখার ক্ষমতা, মনোযোগ ও মানসিক বিকাশে সুষম খাদ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের প্রথম কয়েক বছরে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক বিকাশ আরও ভালোভাবে ঘটে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর মস্তিষ্কের ওজন দুই বছর বয়সেই প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছে যায়। আবার পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই মস্তিষ্কের প্রায় ৯০ শতাংশ বিকাশ সম্পন্ন হয়। তাই এ সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
অতিরিক্ত চিনি ক্ষতি করতে পারে
অনেকের ধারণা, বেশি মিষ্টি খেলে শিশুর বুদ্ধি বাড়ে। তবে এটি সঠিক নয়। মস্তিষ্কের শক্তির জন্য গ্লুকোজ প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত চিনি শিশুকে অতিরিক্ত চঞ্চল ও আবেগপ্রবণ করে তুলতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব শিশু নিয়মিত বেশি চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়, তাদের মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটারের পরিমাণ তুলনামূলক কম হতে পারে। এই অংশটি শেখা ও স্মৃতিশক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে প্রয়োজনীয় খাবার
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিম, মাছ, চর্বিহীন মুরগির মাংস, ডাল, বাদাম ও দুধজাত খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: মস্তিষ্কের গঠন ও শেখার সক্ষমতা বাড়াতে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। তৈলাক্ত মাছ, তিসিবীজ ও মিষ্টিকুমড়ার বীজ এ ক্ষেত্রে উপকারী।
আরও পড়ুন : বাংলাদেশ চা বোর্ডে নিয়োগ, আবেদন শুরু ২৮ জুলাই
ফোলেট ও ভিটামিন কে: মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশে এই দুই পুষ্টি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। সবুজ শাকসবজি, মসুর ডাল ও মুগ ডাল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
ভিটামিন বি: মস্তিষ্কের শক্তি বজায় রাখা এবং মানসিক ক্লান্তি কমাতে ভিটামিন বি সহায়ক। কলা, শস্যদানা, ডাল ও ডিমে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।
কোলিন: স্মৃতিশক্তি উন্নয়ন এবং স্নায়ুকোষের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানে কোলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিম, সয়াবিন, চিনাবাদাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলিতে পর্যাপ্ত কোলিন রয়েছে।
আয়োডিন: শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশে আয়োডিন অপরিহার্য। আয়োডিনযুক্ত লবণ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, সামুদ্রিক মাছ এবং ডিম আয়োডিনের ভালো উৎস।
জিঙ্ক: স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও শেখার সক্ষমতা বাড়াতে জিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ। ছোলা, কুমড়ার বীজ, লাল মাংস, শস্যদানা ও দুগ্ধজাত খাবারে পর্যাপ্ত জিঙ্ক পাওয়া যায়।
সুষম খাদ্যই সবচেয়ে কার্যকর
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো একটি খাবার নয়; বরং সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসই শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করে। তাই শিশুদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।