প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
বর্তমানে শুধু বয়স্ক নয়, অনেক তরুণও কিডনিতে পাথরের সমস্যায় ভুগছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে মূত্রথলিতেও পাথর তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতেই লক্ষণগুলো শনাক্ত করে চিকিৎসা ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। তবে অনেকেই প্রাথমিক উপসর্গগুলো গুরুত্ব না দেওয়ায় সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করে।
ভারতের গণমাধ্যম নিউজ১৮ এর এক প্রতিবেদনে কিডনিতে পাথরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট ডা. অনিল কুমার বার্ষ্ণেয়।
১. পিঠ বা কোমরের তীব্র ব্যথা
কিডনিতে পাথর হলে সাধারণত কোমরের নিচের অংশ বা মেরুদণ্ডের দুই পাশে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথা ধীরে ধীরে তলপেট ও শ্রোণী অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। অনেক সময় ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়ে।
২. প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
কিডনি ও মূত্রাশয়ের সংযোগকারী নালিতে পাথর আটকে গেলে প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ডিসইউরিয়া বলা হয়। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া
কিডনিতে পাথর হলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে, যা হেমাটুরিয়া নামে পরিচিত। এ ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রং লাল, গোলাপি বা বাদামি হতে পারে। কখনও রক্তের পরিমাণ এত কম থাকে যে তা শুধু পরীক্ষার মাধ্যমেই শনাক্ত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন : পুরুষের চেয়ে বেশি ঘুমান নারীরা, তবু ঘুম নিয়ে অসন্তুষ্টি বেশি
৪. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
কিডনিতে পাথরের কারণে কিডনি ও পরিপাকতন্ত্রের স্নায়ুর ওপর প্রভাব পড়ে। এর ফলে বমি বমি ভাব, পেটে অস্বস্তি বা বমি হতে পারে। তীব্র ব্যথার কারণেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
৫. জ্বর ও কাঁপুনি
জ্বর ও কাঁপুনি কিডনি বা মূত্রনালির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। কিডনিতে পাথর থাকলেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে তীব্র ব্যথা থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণের যেকোনো একটি বা একাধিক দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে কিডনির জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তথ্যসূত্র: নিউজ১৮।