তিন দিনব্যাপী হেলথ ফেস্ট-২০২৬ © সৌজন্যে প্রাপ্ত
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ এবং এনএসইউ পাবলিক হেলথ অ্যান্ড সায়েন্সেস ক্লাব (পিএইচএসসি) এর যৌথ উদ্যোগে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা, গবেষণা এবং সমাজসেবামূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে তিন দিনব্যাপী ‘হেলথ ফেস্ট-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
১৪ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত এনএসইউ ক্যাম্পাসে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোয়ার প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা খাত, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আইসিডিডিআর, বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমীদ আহমেদ প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এম. এ. কাশেম, ও বেনজীর আহমেদ, ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালিদ মাহমুদ খান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ এবং নুভিস্তা ফার্মা পিএলসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক ড. কুমকুম পারভীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী।
মূল বক্তব্যে ড. তাহমীদ আহমেদ অপুষ্টি ও শিশুর অপুষ্টি মোকাবেলায় উদ্ভাবনী উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান জনস্বাস্থ্যের চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে অপুষ্টি ও শিশুর অপুষ্টি মোকাবেলায় উদ্ভাবন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং গবেষণাভিত্তিক সমাধান প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তরুণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে হবে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এম. এ. কাশেম বলেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সবসময় শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জনে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। জনস্বাস্থ্যের পরিবর্তিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের গবেষণার সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার মাধ্যমে বিশ্বজ্ঞান সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে হবে।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘হেলথ ফেস্ট ২০২৬’ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির একাডেমিক উৎকর্ষ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করে, নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহিত করে এবং সমাজের কল্যাণে কার্যকর সমাধান তৈরিতে অনুপ্রাণিত করে।
ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সবার কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত।
নুভিস্তা ফার্মা পিএলসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক ড. কুমকুম পারভীন বলেন, স্বাস্থ্য সচেতনতার শুরু শিক্ষা থেকেই। হেলথ ফেস্টের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়, নতুন ধারণা অর্জন এবং স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে জানার একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করে।
সভাপতির বক্তব্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘হেলথ ফেস্ট ২০২৬’ স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণের মতো চ্যালেঞ্জ এবং এর মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষা, গবেষণা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নেছার ইউ. আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।
সাউথইস্ট ব্যাংক ও ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের পৃষ্ঠপোষকতায় তিন দিনব্যাপী হেলথ ফেস্ট ২০২৬-এ স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, একাডেমিক প্রতিযোগিতা, কর্মশালা, সেমিনার, প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। এ উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবন ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসব জনস্বাস্থ্য শিক্ষা, গবেষণা এবং সমাজের প্রতি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।