প্রতীকী ছবি © এআই সৃষ্ট ছবি
উদ্বেগ, মানসিক চাপ বা অস্থিরতা বেড়ে গেলে মনকে বর্তমান মুহূর্তে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর হতে পারে গ্রাউন্ডিং কৌশল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এমন কিছু সহজ মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন, যা মনোযোগকে বর্তমানের দিকে ফিরিয়ে এনে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
এসব অনুশীলনের জন্য আলাদা কোনো সরঞ্জাম বা বেশি সময়েরও প্রয়োজন হয় না। বেশির ভাগই পাঁচ মিনিটের কম সময়ে করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, উদ্বিগ্ন, অন্যমনস্ক বা মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করলে কয়েকটি গ্রাউন্ডিং কৌশল অনুশীলন করা যেতে পারে।
ধীরে ধীরে পেট ভরে শ্বাস নেওয়া
গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস শরীর ও মনকে দ্রুত শান্ত করতে সাহায্য করে। একটি হাত পেটের ওপর রেখে নাক দিয়ে ধীরে শ্বাস নিন এবং পেট ফুলতে দিন। এরপর মুখ দিয়ে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এভাবে ১০ বার শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করুন এবং পুরো সময় মনোযোগ রাখুন শুধু শ্বাসের গতিবিধিতে।
খালি পায়ে কিছুক্ষণ হাঁটা
ঘাস, বালি বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক স্থানে কয়েক মিনিট খালি পায়ে হাঁটুন। পায়ের নিচে মাটির স্পর্শ অনুভব করার চেষ্টা করুন। এটি প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ বাড়ায় এবং অস্থির চিন্তা থেকে মন সরাতে সহায়তা করে।
চারপাশে দেখা পাঁচটি জিনিস লক্ষ্য করা
যেখানে আছেন, সেখানেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকান। চোখে পড়া পাঁচটি জিনিসের রং, আকৃতি বা ছোট ছোট বৈশিষ্ট্যের দিকে মনোযোগ দিন। এই অনুশীলন মনকে অতীত বা ভবিষ্যতের চিন্তা থেকে সরিয়ে বর্তমান মুহূর্তে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
এক মিনিট শরীর প্রসারিত করা
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা মানসিক চাপের কারণে শরীরে যে টান তৈরি হয়, তা কমাতে হালকা স্ট্রেচিং উপকারী। প্রায় এক মিনিট ধরে ধীরে ধীরে শরীরের নিচের অংশ প্রসারিত করুন এবং একই সঙ্গে গভীর শ্বাস নিন। কতটা প্রসারণ করছেন, তার চেয়ে শরীর কেমন অনুভব করছে, সেদিকে মনোযোগ দিন।
আরও পড়ুন : পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্ত? জেনে নিন সম্ভাব্য কারণ
মনোযোগ দিয়ে পানি পান করা
তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে পানি পান করুন। প্রতিটি চুমুকে পানির তাপমাত্রা, স্বাদ ও অনুভূতির দিকে মনোযোগ দিন। এই ছোট অভ্যাস মননশীলতা বাড়ায় এবং ব্যস্ত চিন্তা থেকে মনকে সাময়িক বিরতি দেয়।
ইতিবাচক বাক্য বারবার বলা
গ্রাউন্ডিং অনুশীলনের শেষে নিজের কাছে ইতিবাচক কিছু বাক্য বলুন। যেমন: আমি নিরাপদ। আমি বর্তমানে আছি। ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে কয়েকবার এই বাক্যগুলো পুনরাবৃত্তি করলে মনোযোগ বর্তমানের দিকে ফিরে আসে এবং মানসিক স্থিরতা বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতে, মানসিক চাপ অনুভব করলে বেশি দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।