অনেকের হঠাৎ পেট থেকে গুড়গুড় শব্দ শুরু হয় © ফাইল ছবি
অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে অনেকের হঠাৎ পেট থেকে গুড়গুড় শব্দ শুরু হয়। নীরব পরিবেশে এ শব্দ বেশ অস্বস্তিকরও লাগতে পারে। অনেকে মনে করেন, পেটের এমন শব্দ মানেই ক্ষুধা লেগেছে। তবে শুধু ক্ষুধা নয়, পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজের কারণেও পেটে এই শব্দ হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে কিছু উপসর্গের সঙ্গে এমন শব্দ হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
পেট থেকে শব্দ হয় কীভাবে?
আমরা খাবার খাওয়ার পর সেটি হজম করে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দিতে পাকস্থলী ও অন্ত্র নিয়মিত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। এই স্বাভাবিক নড়াচড়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘পেরিস্টালসিস’। এ সময় পরিপাকনালির ভেতরে থাকা খাবার, তরল, পরিপাকরস ও বাতাস একসঙ্গে নড়াচড়া করে। এর ফলে যে শব্দ তৈরি হয়, সেটিই আমরা পেটের গুড়গুড় শব্দ হিসেবে শুনতে পাই। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই শব্দকে বলা হয় ‘বরবোরিগমি’।
খালি পেটে শব্দ বেশি শোনা যায় কেন?
পেটে খাবার থাকলে অন্ত্রের ভেতরে বাতাস ও তরল চলাচলের শব্দ অনেকটাই চাপা পড়ে যায়। কিন্তু খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পাকস্থলী ধীরে ধীরে খালি হতে থাকে। তখন অন্ত্রের ভেতরে বাতাস ও তরল তুলনামূলকভাবে বেশি নড়াচড়া করে। ফলে পেটের শব্দও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: ডাকসু থেকে জিন্নাহর ছবি সরানোর আল্টিমেটাম ছাত্রদলের, পদক্ষেপ দাবি জুলাই স্তম্ভ নিয়েও
এর সঙ্গে ক্ষুধার হরমোন ‘ঘ্রেলিন’-এরও সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে এই হরমোনের মাত্রা বাড়ে। এটি মস্তিষ্কে ক্ষুধার সংকেত পাঠাতে সাহায্য করে। একই সময়ে পরিপাকতন্ত্রের পেশিগুলোও সংকুচিত ও প্রসারিত হতে থাকে। ফলে অন্ত্রের ভেতরে থাকা অবশিষ্ট খাবারকণা, তরল ও বাতাস এগিয়ে যায় এবং গুরগুর শব্দ তৈরি হয়।
কখন সতর্ক হবেন?
মাঝেমধ্যে পেটে গুড়গুড় শব্দ হওয়া স্বাভাবিক। শুধু শব্দ হচ্ছে বলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তবে পেটে তীব্র বা কামড় দেওয়ার মতো ব্যথা, বমি বমি ভাব বা ক্ষুধামন্দা, অতিরিক্ত পেট ফাঁপা, দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য বা বারবার ডায়রিয়া, ঘন ঘন মলত্যাগের চাপ, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, রক্তাল্পতা এবং মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), পরিপাকনালিতে বাধা বা হজমের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গেও পেটের অস্বাভাবিক শব্দ দেখা দিতে পারে। তাই শুধু গুড়গুড় শব্দ হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এর সঙ্গে অস্বাভাবিক কিছু হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। (সূত্র: আনন্দবাজার)