ওষুধ খাওয়ার সময় ও পদ্ধতিতে ভুল হলে ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে © সংগৃহীত
শরীরে আয়রনের ঘাটতি ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে অনেকেই আয়রনের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খেতে শুরু করেন। কিন্তু নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরও অনেকের রক্তস্বল্পতা কমে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হতে পারে ওষুধ খাওয়ার সময় ও পদ্ধতিতে ভুল। শুধু ওষুধ খেলেই হবে না, কখন, কীভাবে এবং কোন খাবারের সঙ্গে খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিকের মতে, আয়রনের ওষুধ খালি পেটে খেলে শরীর সবচেয়ে ভালোভাবে তা শোষণ করতে পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে খালি পেটে ওষুধ খেলে বমিভাব, পেটব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা খাবারের সঙ্গে ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার নিয়ম পরিবর্তন করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়রনের ওষুধ খাওয়ার সময় কিছু খাবার ও ওষুধ এড়িয়ে চলা জরুরি। কারণ, চা, কফি, দুধ এবং ক্যালশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বা ক্যালশিয়ামের সাপ্লিমেন্ট শরীরে আয়রন শোষণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। একইভাবে কিছু অম্বলের ওষুধও আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই আয়রনের ওষুধ এবং এসব খাবার বা ওষুধের মধ্যে অন্তত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান রাখা ভালো।
অন্যদিকে, ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে শুধু ফলের রস খেলেই যথেষ্ট নয়। অনন্যা ভৌমিকের পরামর্শ, খাদ্যতালিকায় আমলকি, পেয়ারা, কাঁচালঙ্কা, সজনেডাঁটা, লাল ক্যাপসিকাম, ব্রকোলি, কমলালেবু, পেঁপে, মাল্টা বা মুসাম্বি এবং পাতিলেবুর মতো ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ খাবার রাখলে শরীরে আয়রন শোষণ আরও ভালো হয়। তবে আলাদা করে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন কি না, তা চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন।
ভিন্ন খবর: কাইয়ুমের মৃত্যুতে থেমে গেছে পরিবারের স্বপ্ন, অর্থকষ্টে টিকে থাকার লড়াই বাবা-মায়ের
এ ছাড়া মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া, চিকিৎসকের পরামর্শের চেয়ে বেশি মাত্রায় ওষুধ খাওয়া, অনিয়মিতভাবে সেবন করা কিংবা অন্য ওষুধের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়ার মতো ভুলও চিকিৎসার কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রক্তস্বল্পতা দূর করতে শুধু আয়রনের ওষুধ খেলেই হবে না, সঠিক নিয়মে ও সঠিক সময়ে তা গ্রহণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে ওষুধ সেবনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারলে আয়রনের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব। (সূত্র: আনন্দবাজার)