লিভারের চর্বি কমাতে বিবিন্ন প্রকারের পানীয় © এআই সম্পাদিত ছবি
লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব এবং অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক পানীয় নিয়মিত পান করলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা মিলতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত তেল-মশলা, ঘি, মাখন ও অ্যালকোহল থাকলে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা হলে ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিস, এমনকি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। দেখা যায় অনেকেই ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। এর পেছনে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারকে সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক পানীয়ও উপকারী হতে পারে।
ডাবের পানি ও চিয়া বীজ
ডাবের পানিতে থাকা প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে চিয়া বীজে রয়েছে পর্যাপ্ত আঁশ, যা হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখে। এক গ্লাস ডাবের পানিতে এক চামচ ভেজানো চিয়া বীজ মিশিয়ে, চাইলে কয়েকটি পুদিনা পাতা দিয়ে সকালে খালি পেটে পান করা যেতে পারে।
কাঁচা হলুদ ও গোলমরিচের পানীয়
হলুদে থাকা কারকিউমিন শক্তিশালী প্রদাহনাশক উপাদান হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। সামান্য গোলমরিচ যোগ করলে কারকিউমিন শরীরে আরও ভালোভাবে শোষিত হয়। আধা চা-চামচ কাঁচা হলুদ বাটা ও এক চিমটি গোলমরিচ গুঁড়া হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।
পুদিনা ও শশার শরবত
শশায় রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ভিটামিন এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান। পুদিনার সঙ্গে শশার রস মিশিয়ে তৈরি শরবত হজমে সহায়তা করে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত সকালে খালি পেটে এই পানীয় পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও উপকার মিলতে পারে।
আরও পড়ুন: বিকেএসপিতে স্নাতক কোর্সে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন শেষ ৩০ জুলাই
তবে চিকিৎসকদের মতে, এসব পানীয়কে লিভার ডিটক্সের নিশ্চিত উপায় হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। লিভার স্বাভাবিকভাবেই শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণের কাজ করে।
তাই লিভার সুস্থ রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন। বিশেষ করে যাদের ফ্যাটি লিভার বা অন্য কোনো লিভারের রোগ রয়েছে, তাদের নতুন কোনো খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।