সিজোফ্রেনিয়া: একটি জটিল মানসিক রোগ

২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৭ PM , আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

মানসিক অসুস্থতা নিয়ে আমাদের সমাজে এখনো খোলাখুলি আলোচনা খুব কম হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগকে রোগ হিসেবে না দেখে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। অথচ সময়মতো চিকিৎসা পেলে অনেক মানসিক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তেমনই একটি জটিল মানসিক রোগ হলো সিজোফ্রেনিয়া।

এক সন্তানের বর্ণনায় উঠে এসেছে, ছোটবেলায় তার মাকে অন্য সবার মতোই স্বাভাবিক মনে হতো। পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ছিলেন খুবই সচেতন। তবে মাঝেমধ্যে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন কিছু অভিযোগ করতেন, যার বাস্তব কোনো ভিত্তি ছিল না। ধীরে ধীরে তার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে।

পরিবারের এক কঠিন সময়ের পর তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, অদৃশ্য কোনো শক্তি তাদের ক্ষতি করছে। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় একা একা কথা বলতেন, নিজের সঙ্গে নিজেই আলোচনা করতেন, কখনো গান গাইতেন, আবার কখনো এমন কিছু দেখার কথা বলতেন, যা অন্য কেউ দেখতে পেত না।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অনেকেই বিষয়টিকে অতিপ্রাকৃত ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। বিভিন্ন ধর্মীয় উপায়ে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরে চিকিৎসকের পরামর্শে জানা যায়, তিনি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিজোফ্রেনিয়া এমন একটি মানসিক রোগ, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি অবাস্তব বিষয়কে বাস্তব বলে বিশ্বাস করতে পারেন। অনেক সময় তিনি এমন শব্দ শুনতে পান বা এমন কিছু দেখেন, যা বাস্তবে থাকে না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, অদৃশ্য কেউ তাদের নির্দেশ দিচ্ছে। তবে রোগীর উপসর্গ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।

পরিবারের অভিজ্ঞতায় জানা যায়, রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ওষুধ এবং পরিবারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় একা থাকলে অনেকের উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। তাই রোগীর পাশে থাকা, তার কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা দেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, সিজোফ্রেনিয়ার এখনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ সেবন এবং মানসিক সহায়তার মাধ্যমে রোগী দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে রোগের উপসর্গ আবার ফিরে আসার ঝুঁকি থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, সিজোফ্রেনিয়াকে জিন, অতিপ্রাকৃত শক্তি বা কুসংস্কারের সঙ্গে না জড়িয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখা উচিত। সময়মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে রোগী ও তাঁর পরিবারের কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সচেতনতার অভাব, সামাজিক লজ্জা এবং ভুল ধারণার কারণে এখনো অনেক পরিবার মানসিক রোগ লুকিয়ে রাখে। অথচ এই নীরব অসুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই হতে পারে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, যদি রোগীকে অপমান করেন, অতিরিক্ত সমালোচনা করেন বা শত্রুভাবাপন্ন আচরণ করেন, তাহলে রোগের তীব্রতা ও পুনরায় আক্রমণের (রিল্যাপস) ঝুঁকি বাড়ে। তাই ওষুধের পাশাপাশি পরিবারকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করা এবং মানসিক সহায়তা দেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাবার লাশ রেখে সম্পত্তির বিরোধে দুই ভাইয়ের মারামারি, আহত ৪
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
সেই শার্ট গায়ে চাপিয়েই সংবাদ সম্মেলনে এসে ব্যাখ্যা দিলেন পু…
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
জামায়াত আমির-সম্পাদকদের বৈঠকে যা যা হলো
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
গাইবান্ধায় সার সংকট আতঙ্কে কৃষকের লম্বা লাইন
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীতে অস্ত্রসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
ক্লাবিং, চাকরি, গবেষণা—সাকিবের অর্জনের ঝুলিতে এখন ১০ বিশ্বব…
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬