নতুন গবেষণা
স্বাক্ষ্যকর খাবার © সংগৃহীত
আমাদের দেশে নারীদের অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ স্ট্রোক। বিশেষ করে ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের পর বা মেনোপজ (ঋতুস্রাব বন্ধ) পরবর্তী সময়ে এ ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে সম্প্রতি নিউরোলজি ওপেন অ্যাক্সেস জার্নালে প্রকাশিত একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের খাদ্যাভ্যাস বা ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ অনুসরণ করলে নারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
আমাদের দেশে সাধারণত নারীরা পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে নিজের খাবারের প্রতি খুব বেশি অবহেলা করেন। এছাড়া অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ নিউরোলজির জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণাটি বলছে, খাবারের তালিকায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই এ মরণব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
কী এই ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’: এই ডায়েটে মূলত পুষ্টিকর খাবারের কখা বলা হয়েছে।
শাকসবজি ও ফল: প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত দেশি শাকসবজি এবং মৌসুমি ফল রাখা। এগুলো শরীরকে ভেতর থেকে রোগ প্রতিরোধ করতে ভূমিকা রাখে।
মাছ ও চর্বিহীন মাংস: লাল মাংস (গরু বা খাসি) কমিয়ে বেশি করে সামুদ্রিক বা দেশি মাছ খাওয়া।
অলিভ অয়েল ও বাদাম: রান্নায় সম্ভব হলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা অথবা নিয়মিত এক মুঠো কাঠবাদাম বা চিনাবাদাম খাওয়া।
ডাল ও শস্যদানা: ভাতের পরিমাণ কমিয়ে ডাল, মটরশুঁটি এবং লাল আটার রুটি জাতীয় খাবার যুক্ত করা।
গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য
১ লাখ ৫ হাজার নারীর ওপর টানা ২০ বছর ধরে করা এ গবেষণায় দেখা গেছে-
আরও পড়ুন: বেসরকারি মেডিকেল-ডেন্টালে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
সার্বিক ঝুঁকি: যারা এই নিয়ম মেনে খাবার খেয়েছেন, তাদের সব ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকি ১৮ শতাংশ কমেছে।
রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক: মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের ঝুঁকি কমেছে ২৫ শতাংশ, যা বিশেষজ্ঞদের অবাক করেছে।
ব্লকেজ জনিত স্ট্রোক: মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধার কারণে সৃষ্ট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমেছে ১৬ শতাংশ।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল বাড়তে থাকে। গবেষক ড. সোফিয়া ওয়াং জানিয়েছেন, স্ট্রোক প্রতিরোধে ঔষধের চেয়েও জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সঠিক পুষ্টি বেশি কার্যকর।
বাংলাদেশের চিকিৎসকরাও মনে করেন, অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে যারা উদ্ভিজ্জ খাবার ও মাছের ওপর গুরুত্ব দেবেন, তারা বার্ধক্যে অনেক বেশি সুস্থ থাকবেন।
সতর্কতা: আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকে, তবে ডায়েটে বড় কোনো পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই একজন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। (সিএনএন)