করোনাভাইরাস © সংগৃহীত
চীনে আবার দেখা দিয়েছে করোনার প্রকোপ। আরো কিছু দেশেও নতুন করে শুরু হয়েছে সংক্রমণ। তবে জার্মানির স্বনামধন্য এক ভায়রোলজিস্ট মনে করেন, করোনা নিয়ে আর দুশ্চিন্তার কিছু নেই, মহামারি আসলে শেষ হয়ে গেছে। তার এমন মন্তব্য শুনে জার্মানির বিচার মন্ত্রী মার্কো বুশমান খুব খুশি। খুশি হয়ে সারা দেশ থেকে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি পুরোপুরি তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভায়রোলজিস্ট ক্রিস্টিয়ান ডরস্টেন অবশ্য করোনা একেবারে বিদায় নিয়েছে, আর কেউ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হবেন না- এমন আশার কথা শোনাননি। সোমবার জার্মানির টাগেসশ্পিল সংবাদপত্রকে তিনি বলেন, ‘‘ এই শীতে আমরা সার্স-কোভিড-২-এর প্রথম এনডেমিক ঢেউয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমার ধারণা, মহামারি শেষ হয়ে গেছে।’’
বার্লিনের চারিটে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ভায়রোলজি বিভাগের প্রধান মনে করেন, মানুষের গড় ইম্যুনিটি এখন খুব ভালো বলে আগামী গ্রীষ্মে করোনা আর মহামারির রূপ নিতে পারবে না, বর্তমানের মতো এনডেমিক বা নিতান্ত স্থানীয় একটি রোগের পর্যায়ে থেকে যাবে।
জার্মানির আরেক করোনা-বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিয়ান কারাগিয়ানিডিসও ডরস্টেনের সঙ্গে একমত। তবে তিনি মনে করেন, করোনা মহামারি খুব দুর্বল হয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। তার মতে, আগামী গ্রীষ্মে এটি এনডেমিক, অর্থাৎ স্থানীয় রোগের পর্যায়ে চলে যাবে। রেডাক্টসিয়ন্সনেটসভের্গ ডয়েশলান্ড (আরএনডি)-কে এমন আশাবাদের কথাই শুনিয়েছেন কারাগিয়ানিডিস।
আরও পড়ুন: করোনাভাইরাস যেভাবে বদলে দিল দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচনী ফল
সব কৃতিত্ব টিকা এবং স্বাস্থ্যবিধির
ভায়রোলজিস্ট ক্রিস্টিয়ান ডরস্টেন করোনা পরিস্থিতি এতটা নিয়ন্ত্রণে আসার সমস্ত কৃতিত্ব দিয়েছে টিকাদান কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়িকে।
তার মতে এসব ব্যবস্থা না নিলে জার্মানিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিতো, ‘‘কিছুই না করা হলে ডেল্টার স্রোতে জার্মানিতে হয়ত ১০ লাখ বা তার চেয়েও বেশি মানুষ মারা যেতো।'' ডরস্টেন মনে করেন, চীনে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকার প্রধান কারণ সর্বস্তরে টিকা দেয়ায় ব্যর্থতা, টিকাদান কর্মসূচি ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে এমন পরিস্থিতি হতো না।
জার্মানিতে করোনা মহামারি দেখা দেয়ার পর টিকা দেয়া এবং কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান ডরস্টেন। তাই তার মুখে মহামারির বিদায়ের কথা শুনে জার্মানির বিচারমন্ত্রী মার্কো বুশমান ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যবিধির বাদবাকি কড়াকড়িও প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন।
টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমরা এখন এনডেমিক পরিস্থিতে রয়েছি। এখন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এখনো যেসব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, সেগুলোও তুলে নেয়া উচিত।''
জার্মানিতে ইতিমধ্যে প্রায় সব করোনা-সুরক্ষা ব্যবস্থা তুলে নেয়া হয়েছে। শুধু গণপরিবহন, হাসপাতাল ও অন্য কিছু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরা এখনো বাধ্যমূলক। [সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা]