প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো
বর্তমান সময়ে নীরব কিন্তু দ্রুত বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ফ্যাটি লিভার। অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ না থাকায় বিষয়টি দীর্ঘদিন অজানাই থেকে যায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি লিভারের প্রদাহ, সিরোসিস কিংবা অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা ও অনিয়মিত জীবনযাত্রা এই সমস্যার অন্যতম কারণ। তবে আশার কথা হলো খাদ্যাভ্যাসে কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই লিভারকে সুস্থ রাখা সম্ভব। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট চিকিৎসক ডা. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু খাবারের কথা জানিয়েছেন, যেগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমে।
ফ্যাটি লিভারের জন্য উপকারী ৫টি খাবার
১. কফি
চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি লিভারের জন্য উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দিনে দুই থেকে তিন কাপ ব্ল্যাক কফি পান করলে লিভারের প্রদাহ কমতে পারে এবং লিভার ক্ষতির ঝুঁকিও হ্রাস পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কফিতে থাকা কিছু উপাদান লিভারকে টক্সিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
২. বেরি জাতীয় ফল
ব্লুবেরি ও স্ট্রবেরির মতো বেরি জাতীয় ফলে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার থাকে। এই উপাদানগুলো শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে এবং লিভারের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস লিভারের পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
৩. বাদাম
আমন্ড ও আখরোটের মতো বাদামে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ বাদাম খেলে শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমতে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যকারিতা ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
৪. সবুজ শাক-সবজি
পালং শাক, ব্রোকলি, বাঁধাকপি কিংবা ফুলকপির মতো সবুজ শাকসবজি লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এসব খাবারে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
৫. বিট
বিটে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নাইট্রেট, যা রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। সালাদ বা জুস হিসেবে বিট খেলে শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়াও সহজ হয়।
চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে শুধু ওষুধ নয়, বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার যোগ করা, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং সক্রিয় জীবনযাপন লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে। [এই সময়]