ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল © সংগৃহীত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা এবং হেনস্তার ঘটনা নিয়ে সৃষ্ট তীব্র বিতর্কের পর অবশেষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারত। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা তার সরকারি পদের পরিবর্তে একটি ব্যক্তিগত (বেসরকারি) পাসপোর্টে ভারত সফর করছিলেন।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লিতে যান তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাঁকে আটকে দেন এবং দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করেন। বিমানবন্দরে দীর্ঘক্ষণ হেনস্তামূলক পরিস্থিতির শিকার হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করেই ঢাকায় ফিরে আসেন।
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় ওঠে। ঢাকার পক্ষ থেকে এই নজিরবিহীন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ (ডেমি অফিসিয়াল নোট) জানানো হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল। মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, জাহেদ উর রহমান যখন দিল্লিতে আসেন, তখন তাঁর কাছে সাধারণ ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ছিল, যাতে একটি ‘সার্ক ভিসা’ যুক্ত ছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক জিজ্ঞাসাবাদের পর যখন কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে তিনি একটি নির্দিষ্ট সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন, তখন তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারত সরকারের দাবি অনুযায়ী তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে উপদেষ্টা বিমানবন্দর থেকেই ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন, সে বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।