বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক ‘ধর্ষণ’ নয়: এলাহাবাদ হাইকোর্ট 

২০ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

বিবাহবহির্ভুত শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রাপ্তবয়স্ক দুজনের পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্ককে কেবল ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি’—এই অজুহাতে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যায় না বলে এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর তা শেষ পর্যন্ত পূর্ণ না হলে তাকে সব ক্ষেত্রে ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে দেখা যাবে না। খবর এনডিটিভির

সম্প্রতি বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমার নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই যুগান্তকারী রায় দেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে চলমান সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

৩৪ পাতার বিস্তারিত রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করেছে, অভিযোগকারী নারী যদি সজ্ঞানে এবং সম্মতির ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে থাকেন, তবে পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভাঙার কারণে অভিযুক্তকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, অভিযোগকারী নারী কেবল বিবাদে জড়িয়ে বা ক্ষুব্ধ হয়ে এই মামলাটি করেছিলেন। বিশেষ করে, এফআইআর দায়েরের পর অভিযোগকারী নিজেই আবার ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন, যা থেকে এটি স্পষ্ট যে, প্রধানত বিয়ের জন্য আইনি চাপ সৃষ্টি করতেই ধর্ষণের মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। আদালত একে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্পষ্ট অপব্যবহার এবং একটি ‘বিরলতম’ ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

এই ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের কর্নেলগঞ্জ থানায়। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়াগরাজে এসে ওই নারী অভিযুক্ত সঞ্জয় কুমারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। পরে ওই নারী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার সঙ্গে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তবে পুলিশের তদন্তে নির্যাতনের কোনো জোরালো প্রমাণ বা চিকিৎসকের প্রতিবেদনে (মেডিকেল রিপোর্ট) আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

শুনানি শেষে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানায়, পাঁচ বছর দীর্ঘ সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিবার শারীরিক সম্পর্কের পেছনে কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতিই একমাত্র কারণ ছিল—একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে এটি মেনে নেওয়া কঠিন। আদালত এই প্রসঙ্গে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ‘প্রমোদ সূর্যভন পাওয়ার’ এবং ‘দীপক গুলাটি’ মামলার দুটি ঐতিহাসিক রায়ের নজির টেনে জানায়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ‘শুরু থেকেই প্রতারণামূলক বা মিথ্যা’ ছিল—এমন অকাট্য প্রমাণ থাকলেই কেবল তা ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু এই মামলার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল, শুরু থেকে কোনো প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল না।

শেষ পর্যন্ত ভারতের সুখ্যাত ‘রাজ্য বনাম ভজন লাল’ মামলার নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই মামলার আইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার’ হিসেবে গণ্য করে সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে থাকা সব ফৌজদারি মামলা ও অভিযোগ বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চলবে: জামায়াত আমির
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
বান্দার আব্বাসে নতুন বিস্ফোরণ, সৌদি আরবের বিমানবন্দরেও হামল…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে আরও টানা ৫ দিন অতি ভারী বৃষ্টির আভাস, বন্যা পরিস্থ…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
সকালের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ২০ জেলায় ভারী বৃষ্টির আভাস, নদীবন…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের সব বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্…
  • ১৩ জুলাই ২০২৬
গলায় ফাঁস নিয়ে পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতির আত্মহত্যা
  • ১৩ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence