পাঁচ দিনেও ক্লাসে ফেরেনি কন্যামতি স্কুলের ২৮৫ শিক্ষার্থী

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০২ AM
কন্যামতি আকবর হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কন্যামতি আকবর হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় © সংগৃহীত

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে এর দুইদিন আগেই স্কুল-কলেজ খোলার জন্য প্রস্তুত রাখতে ছিলো সরকারি নির্দেশনা। অথচ এখনও পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়নি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কন্যামতি আকবর হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, নদী ভাঙনের শিকার এই বিদ্যালয়ের বর্তমান একমাত্র টিনের ঘরটি বৃষ্টির পানি জমে ডুবে থাকায় এখনও পাঠদানের উপযোগী করা যায়নি। আর তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পাঁচ দিন হয়ে গেলেও ক্লাসে ফিরতে পারেনি বিদ্যালয়টির ২৮৫ জন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তাদের অভিভাবকরাও।

স্কুলে এখনও কেন যায়নি জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জুলহাস ও আব্দুল মালেক জানায়, স্কুল খোলার সংবাদে তারা সেখানে গিয়েছিল, কিন্তু পানির কারণে স্কুলঘরে দাঁড়ানোর মতো জায়গা না থাকায় আবার ফিরে এসেছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী পারভীন খাতুন জানায়, নদী ভাঙনের পরে আমাদের এখন ওই একটিই স্কুল ঘর আছে, কিন্তু সেখানে জিনিসপত্র রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ স্কুল ঠিক হবে তা জানি না।

জানা যায়, বিদ্যালয়হীন এলাকায় সরকারের ১ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০১১-১২ অর্থবছরে আধাপাকা এই বিদ্যালয়টি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কিন্তু চলতি বছরের মাঝামঝি সময়ে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি গঙ্গাধর নদের ভাঙনের মুখে পড়ে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, নদী ভাঙনের কারণে তারা তিন মাস আগে স্কুলের টিন, ইট ও আসবাবপত্র সরিয়ে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে রাখে। আর বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানোর জন্য স্থানীয় লালচান মিয়ার বাড়ির পাশের একটি নীচু জমিতে একটি টিনের ঘর তোলা হয়। কিন্তু সে ঘরেও রাখা হয় পুরাতন ভবনের জানালা, দরজা, কাঠ, টিন, ইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। ফলে পাঠদানের উপযোগী কোনও কক্ষ সেখানে ছিল না।

এর মাঝেই নীচু ওই জমিতে বৃষ্টির পানি জমে ঘরটির মেঝে ও সামনের মাঠ ‍ডুবে আছে বেশ কিছুদিন ধরে। তাই সরকারের নির্দেশনা থকালেও বিকল্প কোন স্থানে ক্লাস নেয়ার কোন উপায় না থাকায় তারা এখনো পাঠদান শুরু করতে পারেননি।

নারায়ণপুর ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নওশাদ আলীও জানালেন একই কথা।  

বন্যা এবং বৃষ্টির পানিতে মাঠসহ ঘরের মেঝে ডুবে থাকায় ১২ তারিখে পাঠদান শুরু করা সম্ভব হয়নি, বলেন নওশাদ আলী।

স্থানীয় লালচান মিয়া বলেন, স্কুলের জায়গা নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ায় নতুন ঘর তোলার জন্য আমি জায়গা দিয়েছি। তবে স্থানটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে গিয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ থাকে না। ফলে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে।

তবে দু-তিন দিনের মধ্যে ফের ক্লাস শুরু করতে পারবেন বলে আশা করছেন কন্যামতি আকবর হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইউছুফ আলী।

ভেঙে যাওয়া বিদ্যালয়ের টিন দিয়ে একটি ছাপরা ঘর তোলা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাঠে কাদাপানি থাকলেও দু-তিন দিনের মধ্যে তা শুকিয়ে যাবে। সেখানেই পাঠদান শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসার জন্য মাইকিংও করা হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যালয়টি সচল করতে উপজেলা পরিষদ থেকে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাগেশ্বরী উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান বলেন, পুরাতন টিন দিয়ে একটি ছাপড়া ঘর তৈরি করতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ থেকে ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়টি পুরোপুরি প্রস্তুত হবে।

‘মামলা করলি কেন, এখন তোরে যদি আমি কোপাই, ধরবে কেডা’
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের উচ্চতর গ্রেড সুবিধার রায় বহাল, রিভিউ খা…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
কর্মচারীর হাতে নিহত ইবি শিক্ষিকার জানাজা সম্পন্ন
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
সরকারি হাসপাতালে হাজিরা দিয়ে ক্লিনিকে রোগী দেখা চিকিৎসকের র…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
তেল রপ্তানি স্থগিত করল চীন : ব্লুমবার্গ
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন শিক্ষ…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬