ফিফা বিশ্বকাপ © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
ফিফা বিশ্বকাপ যেন শিরোপা নির্ধারণেরই মঞ্চ। তবে সেই শিরোপা শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের আড়ালেও থাকে একরাশ অজানা গল্প। বিশ্বমঞ্চের প্রত্যেকটি আসরই অসংখ্য নাটকীয় মুহূর্ত, অপ্রত্যাশিত ফল, নতুন রেকর্ড এবং ইতিহাস গড়ার গল্প উপহার দিয়ে থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ফেবারিটদের আধিপত্যের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর সাহসী লড়াইও চোখে পড়ছে।
সেই অভিজ্ঞতায় চলমান টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত ৭টি চমক তুলে ধরা হলো—
মরক্কোর ইতিহাস গড়া ধারাবাহিকতা
কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েই সেমিফাইনালে উঠেছিল মরক্কো। সেই সাফল্য যে মোটেই কাকতালীয় ছিল না, সেটি আবারও চলমান বিশ্বকাপে প্রমাণ করেছে আটলাস লায়ন্সরা। কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। এর মধ্য দিয়ে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে শেষ আটে ওঠার কীর্তি গড়েছে মরক্কো।
জার্মানির বিদায়
চলমান বিশ্বকাপে অন্যতম বড় অঘটন জার্মানির বিদায়। শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে শেষ ষোলোতেই বিদায়ঘণ্টা বেজেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। নকআউট পর্বে এটিই সবচেয়ে আলোচিত ফলগুলোর একটি।
কানাডার সাহসী লড়াইয়ের বিপরীতে নিষ্ঠুর পরিণতি
শেষ ষোলোয় মরক্কোর বিপক্ষে প্রথমার্ধে দারুণ ফুটবল খেলেছিল স্বাগতিক কানাডা। একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করলেও তাদের হতাশ করেছে ইয়াসিন বুনোর অসাধারণ গোলরক্ষণ। পরে দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টা আক্রমণে তিন গোল হজম করে ৩-০ ব্যবধানে বিদায় নেয় আসরের অন্যতম স্বাগতিকরা।
নরওয়ের ঐতিহাসিক নকআউট জয়
আর্লিং হলান্ডের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জয় পেয়েছে নরওয়ে। রাউন্ড অব ৩২-এ আইভরি কোস্টকে ২-১ গোল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে শেষ আটের লড়াইয়ে জায়গা করে নেওয়া ইউরোপের দলটি এখন ব্রাজিলের বিপক্ষে নতুন চমক দেখানোর স্বপ্ন বুনছে।
ভিএআরের বাড়তি প্রভাব
চলমান বিশ্বকাপে আবারও বড় আলোচনার বিষয় 'ভিএআর'। শেষ ষোলোর বেশ কয়েকটি ম্যাচেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের পেনাল্টিসহ একাধিক বিতর্কিত মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছে ভিএআরের হস্তক্ষেপ।
রক্ষণাত্মক ফুটবলের প্রত্যাবর্তন
নকআউট পর্বে আবারও প্রমাণিত শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ। প্যারাগুয়ে, মরক্কোসহ কয়েকটি দল ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে, শুধু বল দখল নয়; বরং সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহারই নকআউট ম্যাচে সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে।
ব্রুনো গিমারায়েসের নীরব আধিপত্য
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে আলো ছড়াচ্ছেন ম্যাথিউস কুনহা, ভিনিসিয়্যুস জুনিয়রসহ অন্যরা। তবে দলের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছেন মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস। তার ৪টি অ্যাসিস্ট ইতোমধ্যেই তাকে ১৯৭০ সালের পেলের পর ব্রাজিলের সেরা সৃজনশীল পারফরম্যান্সের কাতারে নিয়ে গেছে।