আর্জেন্টিনা দলের ফকল্যান্ডস ব্যানার © সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপে ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জের পতাকা প্রদর্শন এবং স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের পর সংঘর্ষের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ও দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইতালিয়ান ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ফিফা ফাল্কল্যান্ডস ব্যানার প্রদর্শিত এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের পরে আক্রমণের জন্য আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তি প্রক্রিয়া খুলেছে।’
এদিকে ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার যে দুই খেলোয়াড় বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তদন্তের মুখোমুখি হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জের পতাকা প্রদর্শন এবং নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
ফিফার নিযুক্ত নৈতিকতা তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এএফএর পাশাপাশি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে নাহুয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা এবং আর্জেন্টিনা দলের সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে। একই ঘটনায় স্পেনের মিডফিল্ডার পাবলো মার্টিন পাইয়েজ গাভিরা (গাভি)কেও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফিফা খতিয়ে দেখছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জের পতাকা প্রদর্শন তাদের নিয়ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ রাজনৈতিক বার্তার মধ্যে পড়ে কি না।
এ ছাড়া বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে বর্ণবাদ ও বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড এবং ফাইনালসহ টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ঘটনায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
এএফএর বিরুদ্ধে খেলাধুলার বাইরের রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন, অনুপযুক্ত আচরণ, বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ড, বর্ণবাদমূলক আগ্রাসন এবং শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচ পরিচালনার বিভিন্ন প্রটোকল লঙ্ঘন, ম্যাচ শুরুর বিলম্ব এবং টুর্নামেন্ট চলাকালে ঘটে যাওয়া অন্যান্য ঘটনাও পর্যালোচনা করছে ফিফা।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের বিভিন্ন স্লোগান, অঙ্গভঙ্গি এবং প্রদর্শিত বার্তাও তদন্তের অংশ। টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ম্যাচে গ্যালারি থেকে মাঠে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপের ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে নাহুয়েল মোলিনা ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে থিয়াগো আলমাদা ও গাভির বিরুদ্ধে খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন রবার্তো আয়ালাও।
ফিফা ইতোমধ্যে অভিযুক্ত সবাইকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছে। তাদের জবাব পর্যালোচনা করার পর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে, আর্জেন্টিনা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে কি না এবং হলে সেই শাস্তির ধরন ও পরিধি কী হবে।