বার্সেলোনা দল © সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। ম্যাচে ২-১ গোলে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে সেমিফাইনালে উঠে গেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
মঙ্গলবার রাতে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে শুরুতেই দারুণ ছন্দে খেলতে থাকে বার্সেলোনা। প্রথম লেগের দুই গোলের ঘাটতি শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুষিয়ে দেয় তারা। চতুর্থ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। এরপর ২৪তম মিনিটে ফেররান তরেস ব্যবধান বাড়ালে দুই লেগ মিলিয়ে সমতায় ফিরে আসে কাতালানরা।
তবে এই স্বস্তি বেশিক্ষণ টিকেনি। ৩১তম মিনিটে আদেমোলা লুকমান গোল করে ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি দুই লেগ মিলিয়ে আবার এগিয়ে নেন আতলেতিকোকে। এরপর বাকি সময়ে আর কোনো দল গোল করতে না পারায় এই একটি গোলই পার্থক্য গড়ে দেয়।
পুরো ম্যাচে বল দখলে আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। প্রায় ৭১ শতাংশ পজেশন তাদের দখলে ছিল। গোলের জন্য দুই দলই ১৫টি করে শট নেয়, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল বার্সেলোনার আটটি এবং আতলেতিকোর পাঁচটি।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। প্রথম মিনিটে ইয়ামালের নিচু শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন আতলেতিকোর গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। তবে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি, কয়েক মিনিট পরই গোল পায় সফরকারীরা।
প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণে আতলেতিকোকে চাপে রাখে বার্সেলোনা। দানি ওলমোর প্রচেষ্টা এবং ফের্মিন লোপেসের হেডও রুখে দেন মুসো। এক পর্যায়ে ফের্মিন লোপেস আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হলে কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকে।
৪১তম মিনিটে পেনাল্টির দাবি তোলে বার্সেলোনা, তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি, ভিএআরও হস্তক্ষেপ করেনি। প্রথমার্ধের শেষদিকে ফ্রি-কিক থেকেও গোলের দেখা পায়নি দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ অব্যাহত রাখে বার্সেলোনা। ৫৫তম মিনিটে তরেসের কাছ থেকে আসা শট আবারও ঠেকিয়ে দেন মুসো। কিছুক্ষণ পর তরেস বল জালে জড়ালেও ভিএআরের সাহায্যে সেটি অফসাইড হিসেবে বাতিল করা হয়।
৬৮তম মিনিটে কোচ হান্সি ফ্লিক আক্রমণ জোরদার করতে মার্কাস র্যাশফোর্ড ও রবার্ট লেভানদোভস্কিকে মাঠে নামান। কিন্তু তাতেও কাঙ্ক্ষিত গোল আসেনি।
৭৭তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। আতলেতিকোর আলেকসান্দার সরলথ-কে পেছন থেকে ফাউল করায় প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও পরে ভিএআর দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় এরিক গার্সিয়াকে। ফলে শেষ প্রায় ১৯ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় বার্সেলোনাকে।
শেষ মুহূর্তে লেভানদোভস্কির হেড এবং রোনাল্দ আরাউহোর সুযোগ থেকেও গোল আদায় করতে পারেনি বার্সেলোনা। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠে আতলেতিকো শিবির, আর হতাশায় ডুবে যায় কাতালানরা।
এই জয়ের মাধ্যমে ৯ বছর পর আবারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় আতলেতিকো মাদ্রিদ।