আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লোগো © সংগৃহীত
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের আগে বেশ বিপাকে আর্জেন্টিনা। কর ফাঁকি, অর্থ কেলেঙ্কারিসহ বেশকিছু অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ও কোষাধ্যক্ষ তোভিগিনো এবং আরও তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাটির অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ বিলিয়ন পেসোরও বেশি (প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার) বকেয়া অর্থের বিষয়টি জড়িত এই অভিযোগে।
এদিকে আর্জেন্টিনার কর ও কাস্টমস সংস্থা এআরসিএ’র অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মচারী ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ভ্যাট, আয়কর ও সামাজিক নিরাপত্তা অনুদানসহ বিভিন্ন কর কেটে রাখলেও, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি এএফএ। মোট ৩৪টি কর আত্মসাৎ এবং ১৭টি সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন’র তথ্য অনুযায়ী, এসব গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৫০ বছর পর্যন্ত জামিন অযোগ্য কারাদণ্ড হতে পারে।
অন্যদিকে গত ১২ মার্চ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে এসব অভিযোগে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন এএফএ’র সভাপকি তাপিয়া। এক বিবৃতিতে এএফএ জানায়, সব কর-সংক্রান্ত নথি জমা দিয়েছেন তারা এবং এআরসিএ বকেয়া অর্থ গ্রহণ করেছে; যেখানে দেরির কারণে সুদ ধার্য করা হয়েছে, তবে কোনো শাস্তিমূলক জরিমানা আরোপ করা হয়নি। তবে বিচারক আমারান্তে এসব যুক্তি খারিজ করে বলেন, সংস্থার হাতে সময়মতো দায় পরিশোধের জন্য যথেষ্ট অর্থ ছিল।
প্রাক-বিচার হেফাজতে নেওয়া না হলেও তাপিয়া ও তোভিগিনোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দেশ ছাড়তে পারবেন না তারা, এমনকি আদালতের অনুমতি ছাড়া টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি বাড়ির বাইরে থাকাও তাদের জন্য নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, বাকি তিন অভিযুক্তের ওপর থেকে ভ্রমণসংক্রান্ত এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ শুরু হতে আর তিন মাসও বাকি নেই। ফলে তাপিয়া ও তোভিগিনোর ওপর আরোপিত এসব বিধিনিষেধ ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণকে জটিল করে তুলতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তাদের ভাবমূর্তিতেও এর প্রভাব পড়েছে, মাঠের সাফল্যের আড়ালে প্রশাসনিক এই সংকটে দলটি বেশ চাপে পড়েছে।