বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ © এএফসি
গতি, শারীরিক সক্ষমতা কিংবা মাঠের লড়াই-সবদিক দিয়েই এগিয়ে চীন। তাই জয়টা তাদেরই প্রাপ্য। তবে এক মুহূর্তের জন্য ছেড়ে দেয়নি বাংলাদেশও। যোজন যোজন ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সমানতালে লড়েছে লাল-সবুজেরা। কিন্তু দুর্দান্ত লড়াইয়ের পরও ২-০ গোলের আক্ষেপের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ সাজাতে থাকে চীন। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই প্রথম কর্নার আদায় করে নেয় তারা। তবে গোলরক্ষক মিলি আক্তার ও ডিফেন্ডার নবীরুনের দৃঢ়তায় সেই চাপ সামাল দেয় বাংলাদেশ।
ম্যাচজুড়ে রক্ষণে ব্যস্ত থাকলেও সুযোগ পেয়েই পাল্টা আক্রমণে উঠেছে আফঈদার দল। ১৪তম মিনিটে বাঁ-প্রান্তে জায়গা পেয়ে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শট নেন উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমা। তবে শূন্যে লাফিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় সেটি ফিরিয়ে দেন চীনের গোলরক্ষক চেন চেন।
ম্যাচের ১৮তম মিনিটে আবারও বিপদের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে থেকে শট নেন চীনের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ওয়াং সুয়াং। তবে বলটি গোললাইন অতিক্রম করার ঠিক আগমুহূর্তে ডাইভ দিয়ে তা ঠেকিয়ে দেন ডিফেন্ডার শিউলি আজিম, এতে নিশ্চিত গোল থেকে দলকেও বাঁচান তিনি।
২৪তম মিনিটে একবার বাংলাদেশের জালে বল জড়িয়েছিল চীন। বাঁ-প্রান্ত থেকে জিন কুনের ক্রসে বক্সের ভেতর হেড করে গোল করেন ওয়াং সুয়াং। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হস্তক্ষেপে রক্ষা হয় বাঘিনীদের। প্রায় চার মিনিট মাঠের রেফারি পানসা চাইসেইন্ট সাইডলাইনের মনিটরে রিপ্লে দেখে এসে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করেন। ফলে সেই মুহূর্তে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
কিন্তু প্রথমার্ধের শেষদিকে কয়েক মিনিটের ঝড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় চীন। ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে দূরপাল্লার এক দারুণ শটে গোলের সূচনা করেন মিডফিল্ডার ওয়াং সুয়াং। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার ভাসানো শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়।
এর ঠিক দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে চীন। ৪৬তম মিনিটে মিডফিল্ডার ঝ্যাং রুইয়ের নেওয়া নিচু শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়। ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চীন।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। রক্ষণে ছিল আরও সংগঠিত, মাঝমাঠেও লড়াই করেছে সমানে সমান। দ্বিতীয়ার্ধের বিশ মিনিটে একক দক্ষতায় লাফিয়ে বা হাত উঁচু করে নিশ্চিত গোল বাঁচান মিলি আক্তার।
হাফটাইমে তিনটি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। উমহেলা, শিউলি ও নবীরনের জায়গায় তহুরা, হালিমা ও স্বপ্না নামেন। এ ছাড়া ৮৫ মিনিটে সুইডিশপ্রবাসী আনিকা রহমানের অভিষেক হয়। চীনের পক্ষেও দ্বিতীয়ার্ধে তিনজন খেলোয়াড় পরিবর্তন হলেও গোল ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হলেও লড়াকু পারফরম্যান্সে প্রশংসা কুড়ায় বাংলাদেশ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও ২–০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাঘিনীদের।
‘বি’ গ্রুপে চীনের এই জয়ের পর ১ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট (গোল ব্যবধান +২) তাদের। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উত্তর কোরিয়া, তাদের গোল ব্যবধান +৩। অন্যদিকে ১ ম্যাচ খেলে এখন শূন্য পয়েন্ট (গোল ব্যবধান –২) নিয়ে তৃতীয়স্থানে বাংলাদেশ। একই পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে চার নম্বরে উজবেকিস্তান (গোল ব্যবধান –৩)।