ভিনিসিয়ুস জুনিয়র © সংগৃহীত
রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নতুন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এখন নতুন মোড় নিয়েছে। কয়েক মাস ধরে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ক্লাবের সর্বশেষ প্রস্তাব গ্রহণ না করলে ব্রাজিলিয়ান এই তারকাকে চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই বিদায় নিতে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে একাধিক স্প্যানিশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ফলে ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
কয়েক দিন আগেও ধারণা করা হচ্ছিল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে চুক্তি নবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে রিয়াল মাদ্রিদ। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বাণিজ্যিক দিক থেকেও তিনি ক্লাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।
ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন-কে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন চুক্তির বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে ভিনিসিয়ুসকে ক্লাব ছাড়ার সুযোগ দিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটি তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবের বাইরে আর কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের ইতোমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রিয়ালের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবই চূড়ান্ত। এ বিষয়ে নতুন করে আর কোনো আলোচনায় বসতে চায় না ক্লাবটি।
ভিনিসিয়ুস যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তাহলে তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে। আর যদি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই তার ক্লাব ছাড়ার পথ সহজ করে দেবে রিয়াল। ক্লাব চায় না, তিনি চুক্তির শেষ বছরে প্রবেশ করে পরে কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়াই ফ্রি এজেন্ট হিসেবে দল ছাড়ুন।
রিয়ালের এই অবস্থানে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আর্সেনাল। ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, ভিনিসিয়ুস যদি রিয়াল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাকে দলে ভেড়ানোর দৌড়ে নিজেদের ভালো অবস্থানে দেখছে লন্ডনের ক্লাবটি।
তবে ভিনিসিয়ুসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আর্সেনালের সঙ্গে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি। যদিও ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গারকে দলে নেওয়ার আগ্রহ এবং সম্ভাবনা যাচাইয়ের বিষয়টি আগেই প্রকাশ করেছিল ইএসপিএন।
বিশ্বকাপ শেষে ছুটি কাটিয়ে আগামী সোমবার রিয়ালের অনুশীলন কেন্দ্র ভালদেবেবাসে প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভিনিসিয়ুসের। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
ইএসপিএনের সূত্রগুলো জানিয়েছে, রিয়াল কর্তৃপক্ষ ও ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন বৈঠকের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। ক্লাবের বিশ্বাস, নতুন চুক্তিতে থাকবেন নাকি অন্য কোথাও চলে যাবেন—এখন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পুরোপুরি ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলারের।
মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে আলোচনা চললেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি না হওয়ায় কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ভালদেবেবাসের কর্মকর্তাদের মতে, ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার দ্রুত অবসান হওয়া প্রয়োজন।
রিয়ালে ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ নিয়ে নাটকীয়তা প্রায় দুই বছর ধরে চলছে। ২০২৪ কোপা আমেরিকার পর থেকেই চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, দুই পক্ষের মূল মতবিরোধের জায়গা বেতন নয়, বরং সাইনিং বোনাস।
বর্তমানে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাসসহ ভিনিসিয়ুসের বার্ষিক আয় প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ ইউরো। রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ নির্ধারিত সর্বোচ্চ বেতনসীমা প্রায় ২ কোটি ইউরো। ফলে মূল বেতন নিয়ে বড় কোনো সমস্যা নেই।
গ্লোবোর তথ্য অনুযায়ী, বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হলো পাঁচ বছরের চুক্তির মোট আর্থিক মূল্য। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিল বিদায় নেওয়ার পর ভিনিসিয়ুসকে নতুন প্রস্তাব দেয় রিয়াল। তবে সেই প্রস্তাব গত মৌসুমে তার পক্ষ থেকে চাওয়া অঙ্কের তুলনায় অনেক কম।
রিয়ালের যুক্তি, ফ্রি ট্রান্সফারে দলে আসা খেলোয়াড়দের মতো বড় অঙ্কের সাইনিং বোনাস বর্তমান খেলোয়াড়দের দেওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস ও তার প্রতিনিধিদের দাবি, বর্তমান বাজারে তার মানের একজন ফুটবলারকে কিনতে রিয়ালের যে অর্থ ব্যয় করতে হতো, তাদের দাবি তার তুলনায় অনেক কম।
২০১৮ সালে কিশোর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে গোল করেছেন এবং ২০২৪ সালের ব্যালন ডি'অর পুরস্কারে রানার্সআপ হয়েছেন।
এদিকে চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বেশ সক্রিয় রিয়াল মাদ্রিদ। ইতোমধ্যে ফরোয়ার্ড কার্লোস এস্পিকে দলে নিয়েছে ক্লাবটি। আইভরি কোস্টের তরুণ তারকা ইয়ান দিওমান্দের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে নতুন কোচ জোসে মরিনিয়োর দলে আক্রমণভাগে বিকল্প বাড়ছে। এই অবস্থায় চুক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা দীর্ঘায়িত হলে ভিনিসিয়ুসের নিয়মিত একাদশে জায়গা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।