শতদলে শোভিত গাইবান্ধার কাতলীর বিল

০৯ আগস্ট ২০২৫, ১২:০৭ PM , আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৪২ PM
পদ্মফুল হাতে গাইবান্ধার কাতলীর বিলে তরুণী

পদ্মফুল হাতে গাইবান্ধার কাতলীর বিলে তরুণী © টিডিসি

বর্ষার রূপময়তা যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে নতুন রং ছড়ায়। এই ঋতুতে জন্ম নেওয়া জলজ উদ্ভিদের মাঝে সৌন্দর্যের অনন্য প্রতীক পদ্মফুল, যাকে অনেকে ডাকেন ‘জলজ ফুলের রানি’ নামে। গাইবান্ধার দামোদরপুর ইউনিয়নের কাতলীর বিলে চলতি বর্ষায় সেই রানিরাই সাজিয়েছে এক অপার্থিব দৃশ্যকল্প। থইথই পানির বিশাল আয়তনজুড়ে সবুজ পদ্মপাতার গালিচার ফাঁকে ফাঁকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে হরেক রঙের পদ্মফুল – গোলাপির লাবণ্য আর সাদার পবিত্রতায় ভরপুর। এ যেন বিধাতার হাতে আঁকা এক জীবন্ত জলরঙের ছবি, যা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত প্রকৃতিপ্রেমী।

বিলের পাড়জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের সমাগম। কেউ আস্তে আস্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পানির ধারে, নীল আকাশের নিচে পদ্মের সৌন্দর্যকে মন ভরে দেখছেন। কেউ আবার সাবধানে বিলের জলে নামছেন, হাত বাড়িয়ে সংগ্রহ করছেন কাঙ্ক্ষিত পদ্মফুল। আবার অনেকেই মোবাইলে বন্দী করছেন এই অপরূপ দৃশ্য, নিজেদের সেলফিতে ধরে রাখছেন প্রকৃতির সাথে স্মৃতির মেলবন্ধন। কান্তনগর-কামারপাড়া সড়কের পাশে অবস্থিত এই বিলটি ইতোমধ্যেই ‘পদ্মবিল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে স্থানীয়দের কাছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, কয়েক বছর ধরে প্রাকৃতিকভাবেই এই বিলে ফুটছে পদ্মফুলের সমারোহ। এর অপার্থিব সৌন্দর্যের কথা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ায় দূরদূরান্ত থেকে এখন ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। প্রকৃতির কোলে এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে এসে তারা যেন কিছু সময়ের জন্য দৈনন্দিন জীবনের সব ক্লান্তি ভুলে যান, হারিয়ে যান শান্তির নিবিড় নীড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দর্শনার্থী আশরাফুল ইসলামের কণ্ঠে উচ্ছ্বাস বলেন,  জলের বুকে ফুটে থাকা পদ্মেরা মনে হয় স্বর্গের দূত! এত সুন্দর জায়গা আমি জীবনেও দেখিনি।

দর্শনার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বললেন, বন্ধুদের সাথে পদ্মফুলের এই সমারোহ দেখে তিনি মুগ্ধ। বিলের কোমল পানিতে নেমে ফুল দেখার অভিজ্ঞতা তার কাছে ছিল এক অনন্য স্মৃতি।

দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্যমতে, প্রতিদিনই বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা একাকী – সবাই আসছেন এই প্রাকৃতিক বিস্ময় উপভোগ করতে। তারা বিলের পাড়ে বসে শান্তি খুঁজে নিচ্ছেন, আর মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করছেন পদ্মের রাজকীয় শোভা ও বিলের প্রশান্তিময় পরিবেশের ছবি। গাইবান্ধার পদ্মবিল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এখন এক অনন্য গন্তব্য, যেখানে প্রতিটি পদ্মপাতা আর ফুলের পাপড়ি বলে চলেছে প্রকৃতির অমোঘ সৌন্দর্যের গাথা। এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও তার টেকসই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব সকলের।

‘কক্সবাজারে মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করবে সরকার’
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
‘চোখ ওঠা’ কী— কীভাবে ছড়ায়, কী করবেন, কী করবেন না
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভুয়া পেইজ থেকে অপপ্রচার বন্ধে ববি ছাত্…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
কিসের হাসিনা, মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়: স্বরাষ…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
মন্ত্রী-হুইপের পথসভা থেকে আটক যুবকের পিস্তলটি খেলনা, দাবি ও…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
গবেষণাকে মাঠে পৌঁছে দিতে বাকৃবিতে শুরু হচ্ছে বিএসভিইআরের আন…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬