ইঞ্জিনিয়ার সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন সানজিদা ইসলাম তুলি © টিডিসি
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) প্রাক্তন ছাত্রী ও ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। মিরপুরে তার নির্বাচনী প্রচারণা কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ইঞ্জিনিয়ার সমাবেশে’ বুটেক্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা উপস্থিত থেকে তার প্রতি সমর্থন জানান।
ইঞ্জিনিয়ার সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৪ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকে ঢাকা-১৪ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. মইদুল ইসলাম (মঈদ)।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম), ইন্টেরিম কমিটি-আইটিইটি বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার, বুটেক্সের টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সেখ মো. মমিনুল আলম এবং ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম ও অধ্যাপক ড. মো. রিয়াজুল ইসলাম। এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী এ কে এম মহসিন আহমেদ, প্রকৌশলী এ টি এম তানভীর-উল-হাসান (তমাল) সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘অনেক প্রকৌশলী হয়তোবা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন কিন্তু আমি খুব ভাগ্যবান যে আমার জন্য এতজন ইঞ্জিনিয়ার আমার এই প্রচার-প্রচারণা অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে আমার প্রচন্ড মন খারাপ হয়েছিল খালি দেখতাম জুট শেড, কটন শেড এবং এখানে কিভাবে কি পড়াশোনা করব ও কিভাবে কি করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। পরে দেখলাম অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব, জুনিয়র-সিনিয়র সবাই আমাকে প্রচন্ডভাবে সাহায্য করতো এবং যখন আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি তখন আমার এই নির্বাচনের ডায়াগ্রাম তৈরি করতেও সাহায্য পেয়েছি তাদের।’
তিনি বলেন, ‘টেক্সটাইল সেক্টরে আমি ১৮ বছর কাজ করেছি। আমার এই রাজনীতি করার সাহসটা এসেছিল যখন আমার ভাই সহ দেশের হাজারো ভাইকে গুম করা হলো এবং যারা অপরাজনীতি শিকার হলেন তাদের থেকেই। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম তখন থেকেই আমরা বুঝেছিলাম আসলে লড়াই করতে হবে, আন্দোলন করতে হবে এবং যেটা প্রয়োজন সেটা ছিনিয়ে আনতে হবে। আমি এই টেক্সটাইল সেক্টরে দীর্ঘদিন কাজ করেছি, মানবাধিকার সেক্টরে কাজ করেছি এবং আয়না ঘর থেকে গুম হওয়া ব্যক্তিগুলোকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করেছি। অনেককে আনতে পারিনি এবং যাদেরকে আনতে পেরেছি তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া।’
বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘আমাদের মেধাবী ও সাহসী কন্যা এগিয়ে যাক এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক এই আমাদের প্রত্যাশা। বাংলাদেশের মানুষ গত ১৫ বছর বেশ দ্বিধাগ্রস্ত ছিলো তাদের জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা। বিএনপি'র হাত ধরে দেশের টেক্সটাইল সেক্টর আজ উন্নত। যদিও দেশের টেক্সটাইল আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত এবং বাংলাদেশের জন্য আমরা কিছু সমস্যা তৈরিও করে ফেলেছি ইতোমধ্যে। তুলি আমাদের মেধাবী মেয়ে তুলি সেটা বুঝবে, জানবে এবং তা সমাধানের চেষ্টা করবে। আমরা তুলির সফলতা কামনা করি এবং তুলি যেনো সাহসের সাথে এগিয়ে যেতে পারে সেই প্রত্যাশা করি।’
ইন্টেরিম কমিটি-আইটিইটি বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার বলেন, ‘হাসিনা সরকার পতনের পেছনে এই মায়ের ডাক একটি অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছিল। তুলি আমাদের বুটেক্সের অংশ। তাঁর উপর আমাদের অনেক ভরসা এবং সেই ভরসাকে বাস্তবায়ন করার জন্য তুলিকে জয়যুক্ত করতে হবে। তাই আমাদের সকলকে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্ত পাড়া-মহল্লা ও রাস্তাঘাটে তাঁর জন্য প্রচার করে যেতে হবে। আমাদের সবাইকে নিয়ে তাঁর জন্য প্রচারণায় নামতে হবে। আমরা আশা করি সে জয়লাভ করবে এবং আমি তার সাফল্য কামনা করছি।’
ঢাকা-১৪ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যখন বিগত সরকারের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত কাজগুলো হয়েছিল এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের কার্যক্রমগুলো চলেছিল তখন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য কেউ দাঁড়াতে সাহস পাচ্ছিল না। তখন আমাদের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি সে তাঁর খুব দামি একটি চাকরি ছেড়ে দিয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলেছিল এবং আন্দোলন করেছিল দেশের জন্য। আজকের এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে এরকম অনুষ্ঠান এখন পর্যন্ত হয়নি। আমি কিন্তু এই আসনের ভোটার না তবুও আমি নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব নিয়েছি। কারণ আমার এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। আমরা যদি আমাদেরই ছোট বোনটির জন্য বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্পেইন করি এবং আমাদের পরিবারের নিজেদের ভোটগুলো যদি আমরা তাকে দিতে পারি, তাহলে সে জয়যুক্ত হবে এবং এলাকার মানুষদের উন্নতি হবে।’
আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম) বলেন, ‘আমরা সবাই যদি এভাবে চেষ্টা করি তাহলে তুলির জন্য জিততে খুব কষ্ট পেতে হবে বলে আমি মনে করি না। তবে আফসোস এই যে, আমার নিজের বাসা এখানে না হওয়ায় আমি তার জন্য ভোট দিতে পারছিনা। তুলির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সে নিজেই একটি ইন্সটিটিউশন, তার প্রতিষ্ঠিত মায়ের ডাকের চর্চা সারা বিশ্বে আছে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে সব জায়গায়। আমরা কিন্ত তাকে ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি, তাকে আমাদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। সে একজন জাতীয় প্রতিনিধি তাকে তার সম্মান দিতে হবে। আমরা যারা আছি প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে চেষ্টা করলে অবশ্যই ভালো কিছু হবে।’