দেড় বছর ধরে স্থবির বুটেক্স শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম

২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৪ PM , আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৬ PM
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) © সংগৃহীত

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ এক বছর ৫ মাস আগে শেষ হলেও নতুন করে আর কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে করে বুটেক্স শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম পুরো স্থবির রয়েছে।

২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৮ম কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে বর্তমান উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন সাধারণ শিক্ষক পরিষদ বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে কোন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে- এমন আশংকা থেকেই তারা নির্বাচন দিতে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ।

নিয়ম অনুযায়ী, ৯ম কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। এতে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শরফুন নাহার আরজু এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. জাহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

বুটেক্স শিক্ষক সমিতির নির্বাচন বিধি ও পদ্ধতি সংক্রান্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুইজন সদস্য দায়িত্ব প্রাপ্তির ২০ দিনের নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। কিন্তু প্রায় দেড় বছর সময় পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. শরফুন নাহার আরজু বলেন, ‘‘শিক্ষক সমিতি রাজনৈতিক সংগঠন না হলেও রাজনৈতিক ব্যাপার তো থাকে।’’ এছাড়াও পূর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল বলে মন্তব্য করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর কেন শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হচ্ছে না?- তাকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান। উল্টো ‘কেন নির্বাচন দিতে পারছে না’- তার কারণ সাংবাদিককে বের করতে বলেন এবং সেসময় তাকে কেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বাছাই করা হলো, কতজন শিক্ষক নির্বাচন চান- সাংবাদিকের কাছে তা জানতে চান।

নির্বাচন কমিশনারকে কেউ চাপ দিচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমি এগুলো কিছু বলব না, যেহেতু তুমি সাংবাদিক, স্টাডি করে এসব বের করে দিবে। আমি এমন একজন মানুষ যে আমি কোন দায়িত্ব নিয়ে বসে থাকতে পছন্দ করি না।’’

বুটেক্স শিক্ষক সমিতির ৮ম কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘‘বর্তমানে দেশের অবস্থা অস্থিতিশীল হওয়ার কারণে নির্বাচন আয়োজন বিলম্বিত হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই  শিক্ষক সমিতির নির্বাচন দিয়ে দিবে। শিক্ষক সমিতি নিঃসন্দেহে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণে শিক্ষক সমিতি থাকা দরকার।”

একই কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সাইদুজ্জামান বলেন, ‘‘শিক্ষক সমিতি যেহেতু সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে, তাই আমি মনে করি শিক্ষক সমিতি গঠন এবং দায়িত্ব হস্তান্তরও সুষ্ঠু ও নিয়মিত হওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশন গঠনের পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয়তো নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করতে পারেনি, তবে এখনও নির্বাচন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আশা করছি দ্রুততর সময়ের মধ্যে শিক্ষক সমিতির ৯ম কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উন্নয়নমূলক কাজে সক্রিয় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, ‘‘শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হওয়া নিয়ে অনেক শিক্ষকরা কথা বলে চলেছেন জুলাই পরবর্তী সময়ে নতুন উপাচার্য আসার পর থেকেই। সেসময় ক্যাম্পাসে রাজনীতিও মাত্র নিষিদ্ধ হয়েছিল তাই নির্বাচনের মাধ্যমে দল নিরপেক্ষ শিক্ষক সমিতি পাওয়ার সুযোগ হবে এই প্রত্যাশাই ছিল অনেক শিক্ষকের। এরপর নির্বাচন কমিশন গঠিত হলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমিতির নির্বাচন আয়োজন করা নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিশ্চুপ থাকতো এবং এই বিষয়ে তার দায়িত্বহীনতা দেখা যেতো। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনার আগ্রহ দেখালেও তাকে সাহায্য করা হয়নি ও দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হতে হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে।”

ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদ সরকার বলেন, ‘‘বুটেক্সের শিক্ষক সমাজের ঐক্য রক্ষা, পেশাগত অধিকার আদায় এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষক সমিতি একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। শিক্ষক সমিতি প্রশাসন ও  শিক্ষকের মধ্যে বিদ্যমান আস্থার সংকট নিরসন করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, পূর্ববর্তী সমিতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও নির্বাচন আয়োজনে কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সাধারণ শিক্ষকবৃন্দ ইতোপূর্বে একাধিকবার নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে বর্তমান প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব এবং উদাসীনতায় এই প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘‘ছাত্রদের দাবির প্রেক্ষিতে আমরা শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। শিক্ষক সমিতি নির্বাচন হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষক অংশগ্রহণ করবে এবং শিক্ষক রাজনীতি আবার শুরু হবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যতদিন রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে ততদিন শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হবে না। আমাদের সিন্ডিকেট সভায় এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কোনো শিক্ষকই নির্বাচন চান না। পূর্বে শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে শিক্ষক সমিতির সুপারিশ প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখন শিক্ষক সমিতির কারোর হস্তক্ষেপ ছাড়াই অনেক শিক্ষকদের পদোন্নতি হচ্ছে। শিক্ষক সমিতির কমিটি অনেক আগেই দায়িত্ব হস্তান্তর করে দিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়েছিল। আর নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে আগের কমিটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।”

ভারতে এমপি আনার খুনের দুই বছর—তদন্তে নেই অগ্রগতি
  • ১৩ মে ২০২৬
৮ বছর পর সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে রায়…
  • ১৩ মে ২০২৬
হামের চিকিৎসায় সরকারকে ১০টি ভেন্টিলেটর দিল রেডিয়েন্ট
  • ১৩ মে ২০২৬
যক্ষ্মা চিকিৎসায় এক কোটি ৭০ লাখ অ্যান্টি-টিবি ওষুধ কিনবে সর…
  • ১৩ মে ২০২৬
আট বিভাগে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন জবি শিক্ষার্থীরা
  • ১৩ মে ২০২৬
ওয়ালটনের আরও ৪ মডেলের স্মার্ট ওয়াশিং মেশিন উন্মোচন
  • ১৩ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9