পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক © সংগৃহীত
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) অভ্যন্তরীণ সড়কে স্পিডব্রেকার না থাকা এবং বহিরাগত যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। একের পর এক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপদ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
গত ৫ জানুয়ারি (রবিবার) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ক্যাম্পাসের ভেতরে দ্রুতগতির একটি বহিরাগত অটোরিকশার ধাক্কায় চার শিক্ষার্থী আহত হন। আহতরা পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে নুজহাত, দিয়া ও মীম আহত হলেও রিফা তাহসিন গুরুতর আহত হন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অটোরিকশাটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। অনুমতি ছাড়াই বহিরাগত প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা নিয়মিতভাবে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচলকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
এর আগেও একই সমস্যার কারণে দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান দুর্ঘটনার শিকার হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত বাংলা চত্বরের সামনে তাকে বহনকারী একটি রিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে রিকশাটি উল্টে যায়। এতে রাকিবুল হাসান পড়ে গিয়ে পায়ের পাতায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বিশ্রামে রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে পূর্ব গেট থেকে পশ্চিম গেট পর্যন্ত এবং মেইন গেট থেকে নির্মাণাধীন ছাত্রীহল পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ ও সংস্কার শেষে পিচ ঢালাই করা হয়েছে। এতে রাস্তার মসৃণতা বাড়লেও কার্যকর কোনো স্পিডব্রেকার স্থাপন করা হয়নি। ফলে বাইরের যানবাহনগুলো ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে উচ্চগতিতে চলাচল করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব সংস্কারকৃত অভ্যন্তরীণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীসহ আড়াই শতাধিক শিক্ষক, চার শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ পথচারী চলাচল করেন। স্পিডব্রেকার না থাকায় সবাইকে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবুল বাশার খান বলেন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কের নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী হাতে পেলেই দ্রুত স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আজকের রাতের মধ্যেই যেসব স্থানে সড়ক মার্কিং প্রয়োজন, সেগুলো সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, রাস্তা সংস্কারকাজ চলাকালেও বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ি একটি বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। এতে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও গাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত বাংলা চত্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলচত্বর হওয়ায় সেখানে চারটি সড়কের সংযোগ রয়েছে। আগে দুটি স্পিডব্রেকার থাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকলেও সেগুলো অপসারণের পর দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কে স্পিডব্রেকার স্থাপন, বহিরাগত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।