বুয়েটের লোগো © সংগৃহীত
তিন দফা দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন লেভেল ও টার্মের সব পরীক্ষা ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩০ আগস্ট থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন লেভেল ও টার্মের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে স্নাতক পর্যায়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক লিপু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সারা দেশের সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে কমপ্লিট শাটডাউন রয়েছে। আমাদের আজকের পরীক্ষা আমরা বয়কট করেছি এবং আমাদের শাটডাউন কর্মসূচি চলছে।’
এর আগে, তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত বুয়েট শিক্ষার্থীরা গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে রওনা দিলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও জলকামান ব্যবহার করে। লাঠিপেটার ঘটনাও ঘটে, যাতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন।
পুলিশি অভিযানের পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শিক্ষার্থীরা আবারও শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা মোড় ছেড়ে চলে যান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো-
১. নবম গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে এবং ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং হতে হবে;
২. দশম গ্রেডে বর্তমানে শুধুমাত্র ডিপ্লোমাধারীরা আবেদন করতে পারেন, সেখানে উচ্চ ডিগ্রিধারীদের আবেদন করার সুযোগ রাখতে হবে;
৩. কেবলমাত্র বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্নকারীরাই যেন ‘প্রকৌশলী’ বা ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবী ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।