হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট
ধর্ষণকাণ্ড © প্রতীকী ছবি
জাতীয় নির্বাচনের পরদিন নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। তখন ওই নারী অভিযোগ করেছিলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার কারণে তাকে ধর্ষণ ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে।’
এ ঘটনার পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী নারী (৪০) বাদী হয়ে নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করলেও দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনও নেই কোনো গ্রেপ্তার। এছাড়া নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করলেও দেওয়া হয়নি মেডিকেল রিপোর্ট।
ফলে নিরাপত্তাহীনতায় থাকা ওই নারী স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে নেত্র নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নির্বাচন-পরবর্তী এমন ঘটনায় ওই এলাকার অন্যান্য নারীরা আতঙ্কে দিন পার করছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনের পরদিন গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের নিয়ে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বাদীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে এবং স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে গোসলখানায় নিয়ে প্রথম আসামি তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন ভোরে আবার হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য এক নারী কর্মীর ঘর দেখিয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি এবং ভাঙচুরের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে দুই সপ্তাহ পার হলেও ডিএনএ রিপোর্টসহ দুইটি টেস্টের কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণের আলামত পরীক্ষা ও ডিএনএ টেস্ট এবং রিপোর্ট প্রকাশ মাসে সর্বোচ্চ পাঁচ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। কিন্তু এ ঘটনায় এতদিন পরেও কেন প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে না জানতে চাইলে মেডিকেল বোর্ড জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড সদস্য ডা. তাহমিনা আকতার বলেন, এই রিপোর্টগুলো আমাদের কাছে নেই। এগুলো সরাসরি কোর্টে চলে যাবে। তাই আমরা কিছুই জানি না।
ধর্ষণের অভিযোগকারী ওই নারী একজন ভূমিহীন দিনমজুর পরিবারের সদস্য। তারা বসবাস করেন ভূমিহীনদের জন্য সরকারি প্রকল্পে। অথচ, এই বিরোধকে পুলিশের হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নুরুল আনোয়ার পূর্ব শত্রুতা ও সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা হিসেবে বর্ণনা করেন।
ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ও মামলার এক নম্বর আব্দুর রহমান নিজেকে হাতিয়া ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের একজন কর্মী বলে জানান। তবে তার দাবি, তিনি অভিযোগকারী নারীকে চেনেন না। তাই ওর সাথে আমার কখনো দ্বন্দ্ব হয়নি, আর ওকেও আমি চিনিও না।
এদিকে, মামলার দুই সপ্তাহ পার হলেও গ্রেপ্তার হয়নি একজন আসামিও। পুলিশের হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলাটির রেকর্ড করতে আদালত আদেশ দিয়েছেন। এই আদেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলার রেকর্ড করেছি এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি।