শিক্ষা ক্যাডারে ৩৪৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে © সংগৃহীত
শিক্ষা ক্যাডারে ৩৪৮ জনকে নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সরকারি কলেজ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষা, ২০২১-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের ২৩ (ক) থেকে ২৪ (খ) নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত ৩৪৮ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রবেশ পদে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুসারে নিম্নবর্ণিত শর্তে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
শর্তগুলো হলো-
তাকে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে; উক্ত বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে তাকে তাঁর চাকুরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরকার যেরূপ স্থির করবে সেরূপ পেশাগত ও বিশেষ ধরণের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে; তাকে ২ বছর শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ শিক্ষানবিসকাল অনুর্ধ্ব দুই বছর বর্ধিত করতে পারবে। শিক্ষানবিসকালে যদি তিনি চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হন, তবে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাথে পরামর্শ ব্যতিরেকে তাঁকে চাকরি হতে অপসারণ করা যাবে।
উপানুচ্ছেদ (ক) ও (খ) এ উল্লিখিত প্রশিক্ষণ সাফল্যের সাথে সমাপন, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবিসকাল সন্তোষজনকভাবে অতিক্রান্ত হলে তাঁকে চাকরিতে স্থায়ী করা হবে; উপানুচ্ছেদ (ক) এ উল্লিখিত প্রশিক্ষণের জন্য কর্মস্থল হতে অব্যাহতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিকট একটি অঙ্গীকারনামা দাখিল করে তাকে প্রশিক্ষণে যেতে হবে। তাকে একজন জামানতদারসহ ৩০০/- (তিনশত) টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এ মর্মে একটি বন্ড সম্পাদন করতে হবে যে, যদি তিনি শিক্ষানবিসকালে অথবা শিক্ষানবিসকাল উত্তীর্ণ হওয়ার ০৩ বছরের মধ্যে চাকরিতে ইস্তফা দেন, তবে প্রশিক্ষণকালে তাকে প্রদত্ত বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণ উপলক্ষে উত্তোলিত অগ্রিম/ভ্রমণভাতা/অন্যান্য ভাতাদি ও তার প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয়িত সমুদয় অর্থ ফেরত দিতে তিনি বাধ্য থাকবেন।
আরও পড়ুন : বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিভুক্তি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করল মন্ত্রণালয়
চাকরি হতে ইস্তফা দেওয়ার ক্ষেত্রে, তাঁর ইস্তফা সরকার কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পূর্বে যদি তিনি তাঁর কর্তব্য-কাজে অনুপস্থিত থাকেন, তবে উপানুচ্ছেদ অনুযায়ী তার নিকট সরকারের প্রাপ্য সমুদয় অর্থ The Public Demands Recovery Act, 1913 এর বিধান অনুসারে আদায় করা হবে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৪৪ তম বি.সি.এস. পরীক্ষা-২০২১ এর ফলাফলের ভিত্তিতে প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী তার জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে; নিয়োগ পরবর্তী কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন রকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তাঁর ক্ষেত্রে এ আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে; যদি তিনি কোন বিদেশি নাগরিককে বিবাহ করে থাকেন অথবা বিবাহ করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে থাকেন তবে এ নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে; চাকরিতে যোগদানকালে তাঁকে যোগদানপত্রের সাথে ৩০০/- (তিনশত) টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এ মর্মে একটি বন্ড সম্পাদন করতে হবে যে, তিনি নিজে বা তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য কোন যৌতুক গ্রহণ করবেন না এবং কোন যৌতুক প্রদান করবেন না।
এ প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি, এরূপ ক্ষেত্রে তাঁর চাকরির বিষয়ে সরকারের প্রচলিত বিধি-বিধান ও আদেশ প্রযোজ্য হবে এবং সরকার কর্তৃক ভবিষ্যতে প্রণীতব্য বিধি-বিধান ও আদেশ অনুসারে তাঁর চাকরি নিয়ন্ত্রিত হবে; The Government Servants (Conduct) Rules, 1979 এর ১৩(১) উপবিধি অনুযায়ী তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন/দখলে থাকা সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ সম্বলিত একটি ঘোষণাপত্র তাঁকে চাকরিতে যোগদানের সময় সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া ১৩ (২) উপবিধি অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর পর ডিসেম্বর মাসে প্রদর্শিত সম্পত্তির হাস/বৃদ্ধির হিসাব বিবরণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে; মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের মুক্তিযোদ্ধার সনদ পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইকালে মিথ্যা বা জাল প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নিয়োগ বাতিল হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে; চাকরিতে যোগদানের জন্য তিনি কোনো ভ্রমণ ভাতা/দৈনিক ভাতা পাবেন না।