ফলাফল প্রকাশে দক্ষ শ্রমিক নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ © টিডিসি ফটো
ফলাফল প্রকাশে দক্ষ শ্রমিক নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, বিভাগটিতে ফলাফল প্রকাশে ধীরগতির কারণে এমন অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীরা স্যাটায়ারধর্মী একটি পোস্টার বিভাগের আইন বিভাগের শৌচাগারের সাটিয়ে দেয়।
পোস্টরাটির ছবি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিবাদের প্রশাংসা করছেন আবার কেউ কেউ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।
পোস্টারটিতে উল্লেখ করা হয়, সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় ১৬ সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও আইন বিভাগের কর্তৃপক্ষ ‘শীতনিদ্রায়’ চলে যাওয়ায় এখনো ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হয়নি। ফলে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে “রেজাল্ট প্রস্তুতের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কয়েকজন দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে” এমন ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের ভূমিকার প্রতি তীব্র ব্যঙ্গ ছুড়ে দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে দক্ষ কর্মী হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়—জাগ্রত থাকতে হবে ও জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি রুলস এন্ড রেগুলেশন্স ফর ব্যাচেলর’স ডিগ্রী-এর ১৩(গ) বিধান অনুযায়ী ফলাফল ০৮ সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করতে হয়—এই নিয়ম সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে পোস্টারে লেখা হয়, “লিফটের ৮-এ উঠে একদম উত্তর দিকের কম।”
আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি কোনো প্রকৃত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নয়; বরং দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক গাফিলতি ও নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের একটি স্যাটায়ার। দ্রুত ফলাফল প্রকাশ না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে ৮ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করার বিধি থাকলেও প্রতি সেমিস্টারেই রেজাল্ট নিয়ে ভোগান্তিতে পেড়তে হয় তাদের। বর্তমান ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ৪র্থ বর্ষ ১ম সেমিস্টার পরীক্ষার ও ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ৩য় বর্ষ ১ম সেমিস্টার পরীক্ষার ১৬ সপ্তাহ পার হলেও ফলাফর প্রকাশ হয়নি। বিভাগ কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও ফলাফর প্রকাশের কোনো তোড়জোড় নেই। ফলে নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। মানোন্নয়ন পরীক্ষা নিয়ে দোলাচল ও পরবর্তী সেমিস্টারের প্রস্তুতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। ফলে মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে।
বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শামসুল আলম মারুফ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ফলাফল নিয়ে প্রতি সেমিস্টারেই বিভ্রাট তৈরি করা হয়। কখনওই নিয়মমাফিক ফলাফল প্রকাশ হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা সবসময়ই ভোগান্তিতে পড়ে।
এই বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ফলাফল প্রকাশের কাজ চলছে। দ্রুতই প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলবো না।