নিহত উমামা বেগম কনক © ফাইল ফটো
রাজধানীর পল্লবীতে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত উমামা বেগম কনক (৪০) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী ছিলেন।
শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে পল্লবী থানাধীন মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৪ এপ্রিল) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান।
পল্লবী থানার ওসি ওয়াজেদ আলী জানান, ওই নারীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে দাম্পত্য কলহের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। এর পেছনে আরও কিছু আছে কী না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের বড় বোন রুমা আক্তার জানান, কনকের স্বামী ওমর ফারুক দীর্ঘদিন জাপান ছিলেন। দেশে আসার পর থেকে তিনি বেকার। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া বিবাদ হতো। এর জের ধরে গত রাতে ফারুক ধারালো অস্ত্র দিয়ে কনককে কুপিয়ে আহত করে। পরে খবর পেয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন আজ ভোরে সে মারা যায়।
রুমা আরও জানান, কনককে কুপিয়ে আহত করার পর ফারুক বাসাতেই ছিলেন। তিনি সবার কাছে এই ঘটনা স্বীকারও করেছেন। এই দম্পতির বাড়ি নরসিংদী সদরে। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মিরপুরের পল্লবীতে থাকতেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি পল্লবী থানায় জানানো হয়েছে।
এদিকে, ছাত্রলীগের সাবেক এই নেত্রীর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন সংগঠনটি সাবকে ও বর্তমান নেতারা। সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি এরশাদুর রহমান চৌধুরী ফেসবুকের এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী উমামা বেগম কনক আপাকে গতকাল রাতে নিজ বাসায় বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার স্বামী। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। পাশাপাশি খুনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।