সংসদে হাসনাত
কার্টুন শেয়ার করায় গ্রেপ্তার হাসান নাসিম ও এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
কার্টুন শেয়ার করায় এক্টিভিস্ট হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় জাতীয় সংসদে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেছেন, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি, একটি গণঅভ্যুত্থানের পর কার্টুন শেয়ার করার কারণে হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তার করা হবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সরকারি দলের চিফ হুইপ আমাদের ইনভাইট করে সংসদে স্যাটায়ার করে বলেছিলেন, যে তিমি এবং হাঙর রয়েছে খাদ্য তালিকায়। এই কার্টুন শেয়ার করায় হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনি বলেন, এই প্রশ্নগুলো আমরা কাদেরকে করব?
আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে কোয়েশ্চন অব প্রিভিলেজে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ মন্ত্রীদের জবাবদিহিতায় নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না বলেও মন্তব্য করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, চলমান বিভিন্ন বিষয়ে আমরা মন্ত্রীদের প্রশ্নের মধ্যে আনতে পারি। কিন্তু গত ২ সপ্তাহের সেশনে দেখছি তারকাচিহ্নিত প্রশ্নগুলো কার্যপ্রণালী বিধিতে থাকলেও টেবিলে দিয়ে দেওয়া হয়। এতে আমরা মন্ত্রীদের প্রশ্ন করতে পারি না, সম্পূরক প্রশ্ন করতে পারি না। ফলে আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করায় ডিবি পরিচয়ে এক্টিভিস্ট আটক, মৌন সমাবেশের ডাক
উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা কল্পনাও করতে পারি না, একটি গণঅভ্যুত্থানের পরে কার্টুন শেয়ার করার কারণে হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা হাসিনার আমলে দেখেছি কটূক্তি করার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়।
হাসনাত বলেন, আমাদের চিফ হুইপ মহোদয় ইনভাইট করেছিলেন সংসদে এবং স্যাটায়ার করে বলেছিলেন তিমি এবং হাঙর (খাদ্যতালিকায়)। এই কার্টুনটা শেয়ার করেছিলেন হাসান নাসিম। এ কারণে চিফ হুইপের একজন কর্মী মামলা করেছে, ২৫ ধারায়। অথচ ২৫ ধারায় রয়েছে, যৌন নির্যাতন করা হলে এ ধারায় মামলা করা হবে। কিন্তু হুইপ মহোদয়ের যে মিমটি শেয়ার করা হয়েছে, সেখানে কোথায় যৌন নির্যাতন করা হয়েছে? এই ধরনের মামলায় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিরোধীদলীয় মতকে দমন করার জন্য গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, জামিনও দেওয়া হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: হাসান নাসিমের মুক্তির দাবি ডাকসুর
তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন এই সংসদে পাস করা হয়েছে, এই আইনে কার্টুন শেয়ার করায় মামলা করার কোনো বিধান নাই। এই প্রশ্নগুলো আমরা কাদেরকে করব, যদি আমাদের প্রশ্ন করার সুযোগ না দেন? তাহলে তো এটা একটা মনোলোগ সেশন হবে। আমাদের সঙ্গে মন্ত্রীদের যে জবাবদিহিতা, সেটি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। মৌখিক উত্তর দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, এটি রুলস অব প্রসিডিউরে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।