পিস্তল ঠেকিয়ে শিক্ষককে অপহরণের অভিযোগ, নেওয়া হয়েছে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর

০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৭ PM , আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯ PM
বাঁয়ে ২ নম্বর ও ডানে ১ নম্বর মামলার আসামি

বাঁয়ে ২ নম্বর ও ডানে ১ নম্বর মামলার আসামি © সংগৃহীত

চাঁদা না পেয়ে শেরপুরের নকলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে অপহরণ, পিস্তল ঠেকিয়ে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ব্যাংকের ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।

সোমবার (৬ জুলাই) ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম (৫২) বাদী হয়ে শেরপুরের বিজ্ঞ সি.আর. আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন—নকলা উপজেলার পিঁপড়ীকান্দি গ্রামের মো. আবু সাঈম মির্জা (৩৫), মেদীরপাড় গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম গেন্দু মিয়া (৪৫) এবং বাউসা গ্রামের মো. লিটন মিয়া (৩৬)। এছাড়া মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মো. আবু সাঈম মির্জা নকলা উপজেলার গণপদ্দী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি প্রার্থী এবং ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। দ্বিতীয় আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলম গেন্দু মিয়া গণপদ্দী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি। তৃতীয় আসামি মো. লিটন মিয়াকে স্থানীয় যুবদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা যায়, শহীদুল ইসলাম নকলা উপজেলার বড়ইতার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রী শরুফা বেগম একই উপজেলার মেদীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্ত তিনজন নিজেদের শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করেন। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মামলায় দাবি করা হয়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় গত প্রায় দুই বছর ধরে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা  শহীদুল ইসলামকে সরকারি দলের সমর্থক বলে প্রচার করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী দুজনই সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে দীর্ঘ দেড় থেকে দুই বছর ধরে কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে টাকা দাবি করে আসছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই রাত প্রায় ৮টার দিকে শহীদুল ইসলাম গ্রামের বাড়ি থেকে শেরপুর সদরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে খারজান বাজারের উত্তর পাশে একটি অটোরিকশায় ওঠেন। এ সময় পরিচিত আসামি আবু সাঈম মির্জাসহ ৫ থেকে ৭ জন তার গতিরোধ করেন। পরে তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অপহরণের পর তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে গণপদ্দী, ভীমগঞ্জসহ বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে ঘুরিয়ে তাকে জিম্মি করে রাখা হয়। পরে ৪ জুলাই ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে অভিযুক্তরা শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে চোখ বাঁধা অবস্থায় গণপদ্দী বাজারে ফেলে রেখে চলে যায়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনার রাতে নকলা থানায় থাকা এএসআই এমদাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি ভুক্তভোগী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর নিয়েছি। সেগুলো অফিসে দিয়ে সর্বশেষ (লাস্ট) লোকেশন বের করার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া সকালে থানায় আসতে বলেছিলাম।’

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ঘটনা বা মামলা সম্পর্কে আমি জানি না। মামলা যদি হয়ে থাকে তাহলে সেটি আমাদের কাছে আসবে, তখন আমরা দেখব।’

আরও পড়ুন: এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করা সেই লিটু গ্রেপ্তার

ভুক্তভোগী শিক্ষক স্যার আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, দুজন লোক আসবে, তাদের কাছে তার চেকবইটি দিয়ে দিতে। স্যারের স্ত্রী তো এত রাতে বাইরে গিয়ে তাদের সামনে যেতে পারবেন না, তাই আমাকে বলেছিলেন। যারা চেকবই নিতে এসেছিল, তাদের আমি চিনি না। ঘটনা সম্পর্কেও আমার কিছু জানা ছিল না।’

এ বিষয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি মো. আবু সাঈম মির্জাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করে কেটে দেন।

ঘটনার বিষয়ে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এই ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত নই। আমি ৩০ তারিখ থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছি। ২ তারিখ এলাকায় গিয়ে আবার চলে এসেছি। ৬ তারিখ সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছি। এর মধ্যে এমন কোনো ঘটনার কথা আমি শুনিনি।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনা সম্পর্কে না জেনে আমি মন্তব্য করতে পারব না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নাম বলুন। আমি বিষয়টি জানব। এতে আপনাদের তদন্তেও সুবিধা হবে।’

ভুক্তভোগী শিক্ষক শহীদুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। দীর্ঘ এই সময়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার জীবনে কখনো এমন ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি হইনি। একজন শিক্ষক হিসেবে অপহরণের শিকার হওয়া আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও আতঙ্কের বিষয়। আজ মনে হচ্ছে, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে।”

শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চাই, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষক বা নিরীহ মানুষ এমন ঘটনার শিকার না হন। আমি প্রশাসনের কাছে আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি।’

মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ খেলা দেখার সময় শিক্ষার্থীদের হাতাহাত…
  • ০৮ জুলাই ২০২৬
এইচএসসির স্থগিত পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় জানাল বোর্ড
  • ০৮ জুলাই ২০২৬
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে …
  • ০৮ জুলাই ২০২৬
চাঁদপুর যুব মহিলা লীগের সভাপতি গ্রেপ্তার
  • ০৮ জুলাই ২০২৬
জেলা-উপজেলায় নতুন কমিটি গঠন করা হবে: যুবদল
  • ০৮ জুলাই ২০২৬
যে কারণে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলটি ঐতিহাসিক
  • ০৮ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence