খেজুর নাকি গুড়—ওজন কমাতে কোনটি বেশি উপকারী? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মত

৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ PM
 খেজুর ও গুড়

খেজুর ও গুড় © সংগৃহীত

ওজন কমানোর চেষ্টা করলে অনেকেই সাদা চিনির বদলে খেজুর বা গুড় খেতে শুরু করেন। কারণ, এই দুটি প্রাকৃতিক মিষ্টিতে সাদা চিনির তুলনায় বেশি পুষ্টিগুণ থাকে। তবে প্রশ্ন হলো, ওজন কমাতে চাইলে খেজুর নাকি গুড়—কোনটি বেশি উপকারী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটিই পুষ্টিকর হলেও ক্যালোরি ও প্রাকৃতিক চিনি থাকায় পরিমাণ বুঝে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে পুষ্টিগুণ, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব বিবেচনায় খেজুর কিছুটা এগিয়ে।

পুষ্টিগুণের দিক থেকে কোনটি এগিয়ে?

খেজুর একটি সম্পূর্ণ ফল। এতে প্রচুর খাদ্য আঁশ, প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

খেজুরের খাদ্য আঁশ হজম প্রক্রিয়া ধীর করে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই যাদের বারবার ক্ষুধা লাগে বা মাঝেমধ্যে নাশতা খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তাদের জন্য খেজুর ভালো বিকল্প হতে পারে।

অন্যদিকে গুড় তৈরি হয় আখের রস বা খেজুরের রস থেকে। এটি সাদা চিনির তুলনায় কম প্রক্রিয়াজাত হলেও উৎপাদনের সময় এর বেশির ভাগ খাদ্য আঁশ নষ্ট হয়ে যায়। তবে এতে লোহা, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান থাকে, যা সাদা চিনিতে পাওয়া যায় না।

কোনটি বেশি সময় পেট ভরা রাখে?

এই ক্ষেত্রে খেজুরই এগিয়ে।

খেজুরে থাকা দ্রবণীয় খাদ্য আঁশ পাকস্থলীতে ফুলে গিয়ে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং মোট ক্যালোরি গ্রহণও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

'নিউট্রিশন জার্নাল'-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের খাদ্যতালিকায় খাদ্য আঁশ বেশি থাকে, তারা তুলনামূলক কম ক্ষুধা অনুভব করেন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে বেশি সফল হন।

অন্যদিকে গুড়ে খাদ্য আঁশ খুবই কম। এটি দ্রুত হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হতে পারে।

ক্যালোরির দিক থেকে পার্থক্য

খেজুর ও গুড়—দুটিই ক্যালোরিসমৃদ্ধ খাবার।

তবে খেজুর চিবিয়ে খেতে হয় বলে একসঙ্গে বেশি খাওয়া কঠিন। সাধারণত ২ থেকে ৩টি খেজুর খেলেই মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা অনেকটাই কমে যায়।

অন্যদিকে গুড় চা, পায়েস, পিঠা বা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করার সময় অজান্তেই বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়ে যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করে।

রক্তে শর্করার ওপর কোনটির প্রভাব কম?

খেজুরের গ্লাইসেমিক সূচক (জিআই) কম থেকে মাঝারি। এতে থাকা খাদ্য আঁশ রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়তে সাহায্য করে। ফলে শরীরে শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং হঠাৎ ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে।

অন্যদিকে গুড়ের গ্লাইসেমিক সূচক তুলনামূলক বেশি। এটি দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায় এবং পরে দ্রুত কমিয়ে দেয়। এতে আবার ক্ষুধা লাগতে পারে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

'ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন'-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, কম গ্লাইসেমিক সূচকযুক্ত খাবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে এবং দীর্ঘ সময় শরীরে শক্তি ধরে রাখতে বেশি কার্যকর।

অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ

খেজুরে ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনলিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের বিপাকক্রিয়া ভালো রাখতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে গুড়ে প্রচুর লোহা থাকায় রক্তস্বল্পতায় ভোগা মানুষের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পুষ্টিগুণের কথা ভেবে অতিরিক্ত খেজুর বা গুড় খাওয়া উচিত নয়। দুটিই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।

খাদ্যতালিকায় কীভাবে রাখবেন?

খেজুর সরাসরি নাশতা হিসেবে খাওয়া যায়। এছাড়া স্মুদি, ওটস, দই বা পায়েসের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যায়। অনেকেই এনার্জি বার তৈরিতেও খেজুর ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে গুড় সাধারণত চা, বিভিন্ন রান্না বা মিষ্টান্নে ব্যবহার করা হয়। এতে কতটা গুড় খাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। ফলে অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হতে পারে।

ওজন কমাতে কোনটি বেশি ভালো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমাতে চাইলে খেজুর তুলনামূলক ভালো বিকল্প।

কারণ এতে খাদ্য আঁশ বেশি, এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।

অন্যদিকে গুড়েও পুষ্টিগুণ রয়েছে। তবে এটি সহজেই বেশি খাওয়া হয়ে যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

তাই ওজন কমাতে চাইলে পরিমিত পরিমাণে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। গুড় খেতে চাইলে সেটিও সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের প্রশ্নোত্তর

প্রতিদিন কতটুকু গুড় খাওয়া উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে প্রতিদিন আধা চা-চামচ থেকে সর্বোচ্চ এক চা-চামচ গুড় খাওয়াই যথেষ্ট। এর বেশি খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে।

প্রতিদিন কতটি খেজুর খাওয়া নিরাপদ?

ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলে সাধারণভাবে প্রতিদিন ১ থেকে ২টি খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। খেজুর পুষ্টিকর হলেও এতে ক্যালোরি বেশি থাকায় পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

শরীরচর্চার আগে না পরে খেজুর খাওয়া ভালো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামের আগে ১ থেকে ২টি খেজুর খেলে শরীর দ্রুত প্রাকৃতিক শক্তি পায়। আবার ব্যায়ামের পরও খেজুর খাওয়া যেতে পারে, কারণ এটি শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। তবে ওজন কমাতে চাইলে এখানেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

সবশেষে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খেজুর বা গুড় বেছে নিলেই ওজন কমবে না। এগুলো কতটুকু এবং কীভাবে খাচ্ছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পরিমিত খাবারের কোনো বিকল্প নেই।

তেল, দুধ, চিনি থেকে কতটা মাইক্রোপ্লাস্টিক আপনার শরীরে ঢুকছ…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি জোরদার …
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
অপরাধীরা ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ-চাকরিপ্রার্থ…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে নিহত আরসার সদস্য
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
নিজ প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে বাসচাপায় প্রাণ গেল শিক্ষকের
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: ববি হা…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬