ব্লু টি © টিডিসি সম্পাদিত
রঙে নীল, স্বাদে হালকা এবং ক্যাফেইনমুক্ত অপরাজিতা ফুলের চা বা ব্লু টি বর্তমানে ভেষজ পানীয় হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। অপরাজিতা ফুল, যার ইংরেজি নাম বাটারফ্লাই পি ফ্লাওয়ার, গরম পানিতে ভিজিয়ে বা ফুটিয়ে তৈরি করা হয় এই নীল রঙের চা।
এতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগের কারণে পানীয়টি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
অপরাজিতা ফুলের চায়ের সম্ভাব্য উপকারিতা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ: অপরাজিতা ফুলে অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব যৌগ শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে এবং কোষকে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: অপরাজিতা চা নিজে থেকে ওজন কমানোর কোনো নিশ্চিত উপায় নয়। তবে চিনি ছাড়া পান করলে এটি কম ক্যালরির একটি পানীয় হিসেবে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। বিপাকক্রিয়া ও চর্বি কমানোর বিষয়ে অপরাজিতা ফুল নিয়ে কিছু গবেষণা থাকলেও মানুষের ক্ষেত্রে আরও শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা: অপরাজিতা ফুলের কিছু উপাদান রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
মানসিক প্রশান্তিতে সহায়ক: ক্যাফেইনমুক্ত হওয়ায় সন্ধ্যা বা রাতে এটি কফি-চায়ের বিকল্প হিসেবে পান করা যায়। গরম ভেষজ পানীয় হিসেবে এটি শরীর ও মনে কিছুটা প্রশান্তি দিতে পারে। তবে উদ্বেগ বা হতাশার চিকিৎসা হিসেবে অপরাজিতা চায়ের কার্যকারিতার যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী হতে পারে: অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার ও পানীয় সামগ্রিকভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে। অপরাজিতা ফুলের উপাদান কোলাজেন ও ত্বকের জন্য উপকারী এমন কিছু প্রাথমিক গবেষণা থাকলেও ত্বক বা চুলের সৌন্দর্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন।
কখন অপরাজিতা চা পান করবেন
অপরাজিতা চা ক্যাফেইনমুক্ত হওয়ায় দিনের বিভিন্ন সময় পান করা যায়। সকালে হালকা ভেষজ পানীয় হিসেবে কিংবা বিকেল ও সন্ধ্যায় চা-কফির বিকল্প হিসেবে এটি খাওয়া যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলতে চাইলে চিনি ছাড়া অপরাজিতা চা বেছে নেওয়া যায়।
আরও দেখুন: ওজন কমানোর পথে বাধা হতে পারে যে ৭ খাবার
তবে যেকোনো ভেষজ পানীয়ের মতো এটি অতিরিক্ত পরিমাণে পান না করাই ভালো। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন বা কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন, তাদের নিয়মিত পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যেভাবে তৈরি করবেন
অপরাজিতা ফুলের চা তৈরি করতে ৪ থেকে ৫টি তাজা বা শুকনা অপরাজিতা ফুল নিতে হবে। ফুলগুলো এক কাপ গরম পানিতে ৩ থেকে ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। পানি নীল রঙ ধারণ করলে ফুলগুলো ছেঁকে নিন।
স্বাদ অনুযায়ী এতে সামান্য মধু, লেবু বা আদা যোগ করা যেতে পারে। বিশেষ করে লেবুর রস মেশালে নীল রঙের চা ধীরে ধীরে বেগুনি বা বেগুনি-গোলাপি রঙ ধারণ করে।
অপরাজিতা ফুলের চা মূলত একটি ক্যাফেইনমুক্ত ভেষজ পানীয়। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে ওজন কমানো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, উদ্বেগ দূর করা, অতিরিক্ত সেবন করা বা কোনো রোগের চিকিৎসায় এটিকে ওষুধের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করার ঠিক নয়। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত সেবনের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কোনো ধরনের শারীরিক অস্বস্তি বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে পান করা বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।