বিভিন্ন প্রকার খাবার © সংগৃহীত
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে শুধু ব্যায়াম বা ওষুধের ওপর নির্ভর করলেই হয় না, প্রতিদিনের খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। ধমনী, শিরা ও অন্যান্য রক্তনালি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিসের মতো বিভিন্ন কারণে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ধমনিতে প্লাক জমে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু উপকারী খাবার রাখলে রক্তনালির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হৃদ্যন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে। জেনে নেওয়া যাক, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে পাতে রাখা যেতে পারে এমন পাঁচ খাবার।
বিট
বিটে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রেট থাকে, যা শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে পরিণত হয়। ওই নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালিকে প্রসারিত ও শিথিল করতে সাহায্য করে। ফলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
নানা রকম কপি
বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ব্রাসেল স্প্রাউটের মতো সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আইসোথাইওসায়ানেট ও গ্লুকোসিনোলেট। এগুলো রক্তনালির প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমায় এবং ধমনীর গায়ে কোলেস্টেরল বা ক্যালসিয়ামজাত প্লাক জমতে দেয় না।
আখরোট
আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড রক্তের ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমাতে সাহায্য করে। এটি ধমনীর নমনীয়তা বজায় রাখে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না।
তৈলাক্ত মাছ
রুই, কাতলা, ইলিশ, মাগুর, শিংয়ের মতো তৈলাক্ত মাছে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এতে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
ডার্ক চকোলেট
এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ধমনীকে পরিচ্ছন্ন রাখে। এটি শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করতেও অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, যা রক্ত চলাচলের পথকে বাধাহীন রাখে।
খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়ার আগে সতর্কতা
এই খাবারগুলো অত্যন্ত উপকারী হলেও তা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ডায়াবিটিস, কিডনির সমস্যা কিংবা উচ্চ রক্তচাপের জটিলতা রয়েছে, তারা দৈনন্দিন খাওয়াদাওয়ায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনতে চাইলে আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অতিরিক্ত ডার্ক চকোলেট খেলে আবার শরীরে ক্যালোরি ও শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য বজায় রাখা ও প্রক্রিয়াজাত তেল-মসলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই হৃদ্যন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখার আসল চাবিকাঠি।