বাড়িতে ঢুকে স্কুলশিক্ষককে গুলি করার অভিযোগ

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৪ AM
সদরপুর থানা

সদরপুর থানা © সংগৃহীত

ফরিদপুরের সদরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাড়িতে ঢুকে এম এ মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক স্কুলশিক্ষককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। হেলমেট পরিহিত ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে। পরে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে তারা চলে যায় বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ। আহত স্কুল শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত মোস্তাফিজুর রহমানকে রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। আহত মোস্তাফিজুর রহমান জাকেরডাঙ্গী গ্রামের সফিউদ্দীন রহমানের ছেলে। তিনি সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের শোনপাচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়, চরভদ্রাসন উপজেলার ব্যবসায়ী আলতাফ শেখের সঙ্গে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ৭ সেপ্টেম্বর আলতাফ শেখের প্রায় দুই বিঘা জমির ৩ শত ৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের বোন মোহসীনা আক্তার দাবি করে বলেন, বুধবার স্কুল শেষে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফেরেন আমার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান। ১৪ থেকে ১৫ জন যুবক মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরা অবস্থায় তার বাড়িতে ঢোকেন। তাদের কয়েকজনের হাতে হকিস্টিক, রামদা, চাপাতি ও কাঠের লাঠি ছিল।

তিনি দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই আমার ভাইকে গুলি করা হয়েছে। হামলাকারীরা স্কুল থেকে মোস্তাফিজুরকে অনুসরণ করে বাড়িতে এসে গুলি করেন। গুলিতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে হামলাকারীরা চলে যান।

মোস্তাফিজুরের বাবা সফিউদ্দীন রহমান অভিযোগ করে বলেন, ২৬ শতাংশ জমি চরভদ্রাসনের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছিলেন তিনি। তবে ওই ব্যক্তি আরও প্রায় ৪০ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরেই আমার ছেলের ওপর হামলা হয়েছে। আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলি করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল মইদ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ঘটনার সময় আমাদের দেখে পালাতে গিয়ে পড়ে যান মোস্তাফিজুর রহমান। তখন তার পায়ে আঘাত লাগে। তার পা আগে থেকেই ভাঙা ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে, আহত শিক্ষককে যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তার ‘ইনজুরি নোট’ অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের ডান পায়ে গুলির ক্ষত রয়েছে। এতে হাঁটুর নিচের অংশের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া ডান কাঁধের হাড়ের স্থানচ্যুতি, বুকে আঘাতের দাগ এবং ডান হাতে ফোলা ও ব্যথার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক হুমায়ূন কবীরের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়টি নিয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটেছে বলে জানানেই। তাছাড়া এ ঘটনায় থানায় কেউ কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেননি।

পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত, আহত ২
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এলএলবি পরীক্ষার ফি কমাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ফরম পূরণের শেষ…
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুই গ্রামে দুই বাল্যবিবাহের আয়োজন, একদিনেই বন্ধ করল প্রশাসন
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজ দেশের যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলে ডাক পেলেন বাংলাদে…
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাড়িতে ঢুকে স্কুলশিক্ষককে গুলি করার অভিযোগ
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬