টমেটো খেলে কী কিডনিতে স্টোন জমে © সংগৃহীত
টমেটো খেলে কিডনিতে পাথর হয়—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। বিশেষ করে টমেটোর ভেতরের ছোট ছোট দানা ও জেলির মতো অংশ নিয়ে কিডনিতে অক্সালেট জমার আশঙ্কা করেন অনেকে। এ কারণে কিডনির সমস্যা এড়াতে কেউ কেউ উপকারী এই সবজিটিও খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেন। তবে টমেটো নিয়ে প্রচলিত এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
মুম্বাইয়ের পুষ্টিবিদ লিমা মহাজনের মতে, টমেটো সম্পর্কে ভুল ধারণার কারণে অনেকেই লাইকোপিনসমৃদ্ধ এই খাবারের নানা উপকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
টমেটোতে থাকা লাইকোপিন একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এটি শরীরকে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। বিশেষ করে প্রস্টেট, ফুসফুস ও স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধে লাইকোপিন ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও লাইকোপিন সহায়ক। এর ফলে রক্তনালির স্বাস্থ্য ভালো থাকে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
টমেটো ত্বকের জন্যও উপকারী। এতে থাকা লাইকোপিন সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে কিছুটা সুরক্ষা দিতে এবং কোলাজেনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি মস্তিষ্কের কোষের স্বাস্থ্য ও চোখের সুরক্ষাতেও এর ভূমিকা রয়েছে।
তবে টমেটোকে কিডনির পাথরের জন্য দায়ী করা হয় কেন—এ প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এতে থাকা অক্সালেটের পরিমাণে। পুষ্টিবিদ লিমা মহাজনের তথ্য অনুযায়ী, টমেটোতে সামান্য পরিমাণে অক্সালেট থাকে। একটি গোটা টমেটোতে এর পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৭ মিলিগ্রাম। তুলনায় এক বাটি পালংশাকে প্রায় ৭৫০ মিলিগ্রাম অক্সালেট থাকতে পারে।
অর্থাৎ টমেটোতে অক্সালেট থাকলেও এর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। শুধু এই কারণে সাধারণভাবে টমেটো খাওয়াকে কিডনিতে পাথর হওয়ার সরাসরি কারণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
অক্সালেটযুক্ত খাবার নিয়ে যাদের বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে, তাদের জন্য খাদ্যাভ্যাসে কিছু বিষয় খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লিমা। তার মতে, পালংশাক, বিট, কাঠবাদাম, ডার্ক চকোলেট ও আঙুরের মতো অক্সালেটযুক্ত খাবারের সঙ্গে ক্যালশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যেতে পারে। দই, পনির, রাগি, সজনেশাক ও বিভিন্ন ধরনের মিলেট এ ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
তাই শুধু কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কায় টমেটো পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কারও আগে থেকেই কিডনিতে পাথরের সমস্যা থাকলে বা চিকিৎসক নির্দিষ্ট খাদ্য এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিলে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করাই নিরাপদ।