মেদ গলানো থেকে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ, কালো কফি নাকি গ্রিন টি—কোন পানীয় বেশি উপকারী?

০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ AM
 কফি ও গ্রিন টি

কফি ও গ্রিন টি © সংগৃহীত

সকালের শুরুতে এক কাপ গরম পানীয় অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কেউ দিন শুরু করেন কালো কফি দিয়ে, আবার কেউ গ্রিন টি-তে ভরসা রাখেন। ওজন কমানো, ডায়াবিটিসের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ কিংবা শরীর চাঙ্গা রাখতে কোন পানীয় বেশি উপকারী—এ নিয়ে রয়েছে নানা মত। তবে পরিমিত পরিমাণে এবং চিনি-দুধ ছাড়া পান করলে দুই পানীয়ই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

দুই পানীয়তেই অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে এবং ক্যালোরির পরিমাণ কম। তবে কালো কফি ও গ্রিন টি-র উপাদান এবং শরীরে এর প্রভাব এক নয়। তাই কোনটি বেশি উপকারী, তা অনেকটা নির্ভর করে আপনি কী উদ্দেশ্যে পান করছেন তার ওপর।

কালো কফির গুণ

কালো কফিতে থাকা ক্যাফিন সাময়িকভাবে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে পারে। এটি নরএপিনেফ্রিন ও ডোপামিনের মতো রাসায়নিকের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে, ফলে কিছু সময়ের জন্য মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়তে পারে।

কালো কফিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলা এবং প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া ক্যাফিন বিপাকীয় হার বাড়াতে পারে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়তা করতে পারে। কফি অ্যাড্রেনালিনের কার্যক্রম বাড়াতে পারে বলে শারীরিক সক্রিয়তাও বাড়তে পারে।

কিছু গবেষণায় নিয়মিত কফি পানের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গ্রিন টি-র গুণাবলি

গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটেকিন নামের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরে প্রদাহ কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রিন টি বিপাকীয় হার বাড়াতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এতে থাকা ক্যাটেকিন, বিশেষ করে ইজিসিজি, শরীরে চর্বি জমার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

গ্রিন টি-তে থাকা এল-থিয়ানিন ও ক্যাফিন একসঙ্গে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে পারে। এতে মনোযোগ বাড়ার পাশাপাশি অনেকের মন-মেজাজও ভালো হতে পারে।

একাধিক গবেষণায় গ্রিন টি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ানো এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দেখা গেছে। এ ছাড়া ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

ডায়াবিটিসের জন্য কোনটি বেশি কার্যকর

চিনি ছাড়া কালো কফি ও গ্রিন টি—দুটিই প্রায় ক্যালোরিবিহীন পানীয়। নিয়মিত কফি পানের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কফিতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও গ্লুকোজ বিপাকে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, গ্রিন টি-র ক্যাটেকিন, বিশেষ করে ইজিসিজি, ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তবে কফিতে থাকা ক্যাফিন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবিটিস থাকলে নিয়মিত কফি পানের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ওজন কমানোর জন্য কোন পানীয় খাবেন

কালো কফি ও গ্রিন টি—দুটিই ওজন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। দুই পানীয়ের কিছু উপাদান বিপাকীয় হার বাড়াতে পারে। কফি পান করলে কিছু সময়ের জন্য পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

অন্যদিকে, গ্রিন টি-তে ক্যাফিনের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও এতে থাকা ইজিসিজি শরীরে চর্বি জমার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

শারীরচর্চার আগে কফি পান করলে ক্যাফিনের কারণে শরীর চাঙ্গা থাকতে পারে এবং ব্যায়ামের সময় ক্যালোরি পোড়ানোর পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে।

তা হলে কখন কোনটি খাবেন?

শারীরচর্চার আগে কফি পান করা যেতে পারে। এতে শরীর চাঙ্গা থাকার পাশাপাশি কিছু সময়ের জন্য ক্ষুধাও কম অনুভূত হতে পারে। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম ক্যাফিন গ্রহণের পাশাপাশি ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পেতে চাইলে গ্রিন টি বেছে নিতে পারেন।

তবে দুই পানীয়ই পরিমিত পরিমাণে এবং চিনি ছাড়া পান করা ভালো। কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে নিয়মিত কফি বা গ্রিন টি পানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্প, নাসা ও নৌবাহিনীতে আলো ছড়াচ্…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
এলজিইডির সড়ক বন্ধ করে বিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে রাস্তা, আতঙ্কে শ…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
কুয়েটের গবেষণায় বর্জ্য থেকে মিলছে জ্বালানি তেল
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
ধৈর্যের সীমা পেরোলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে: রুমিন ফারহানা…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
মাদ্রাসায় হাজিরা দিয়েই চলে যাওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে,…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতায় ইবি শিক্ষার্থীদের ক্যা…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬