ক্রিকেটার থেকে ‘শুটার’, অপরাধ জগতে যেভাবে আলোচিত হয়ে উঠলেন ডেভিড ইমন

৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:০৪ AM
মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন

মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন © সংগৃহীত

অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রামের অপরাধজগতে আলোচিত নাম হয়ে ওঠেন মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন। বিদেশি নম্বর থেকে ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ফোন করে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি, একের পর এক হত্যাকাণ্ড, অস্ত্রবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বারবার উঠে আসে তার নাম।

পুলিশের ভাষ্য, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং মাঠপর্যায়ের নেতৃত্বদানকারী ছিলেন ডেভিড ইমন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ভারতে পালানোর সময় বুধবার যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত ওমানপ্রবাসী মো. মুসার ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্কুলজীবন থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেল চালিয়ে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে অনুশীলনে যেতেন। পরে নগরের অক্সিজেন এলাকায় খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নেন। চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে খেলতেন এবং কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতেন।

পরিবার ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, নগরের রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর কলেজে ভর্তি হলেও এইচএসসি পরীক্ষা আর দেওয়া হয়নি তার। ২০২০ সালে করোনা মহামারির পর তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। এ সময় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়বের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

এরপর ধীরে ধীরে অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন ইমন। পুলিশ বলছে, অল্প সময়েই তিনি অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ শুটার ও ভাড়াটে খুনি হিসেবে পরিচিতি পান। ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রের মহড়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামজুড়ে অপরাধচক্র পরিচালনা করতেন তিনি।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রামে বড় সাজ্জাদের বাহিনীর মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান। এই চক্রে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। ভারত থেকে বড় সাজ্জাদ নিয়মিত তাদের নির্দেশনা দিতেন বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ‘ঢাকাইয়া আকবর’ হত্যা, হাটহাজারীর জোড়া খুন, চান্দগাঁওয়ে আফতাব হত্যা এবং চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় মোটরসাইকেল ভাড়া করা এবং হামলায় অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ের দায়িত্বও ইমনের ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৫ আগস্টের পর বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া ১৫ থেকে ২০টি অস্ত্র হাতে তার একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অস্ত্র ব্যবহারে তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বায়েজিদ থানার একটি দস্যুতার মামলায় কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইমন। তবে মাত্র ২২ দিনের মাথায় জামিনে মুক্তি পান। এরপর তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে বাকলিয়া থানার জোড়া খুনের মামলায় ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান ইমন। জামিন পাওয়ার পরপরই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ওই ঘটনায় বিচারব্যবস্থা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সম্প্রতি এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগেও আলোচনায় আসেন ডেভিড ইমন। চলতি বছরের ৯ মে বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিপ্লব দে পার্থের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে একটি অডিও বার্তাও পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

বুধবার যশোর সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বড় সাজ্জাদের অপরাধচক্র, অস্ত্র সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান ও জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসী ইয়াসিনকে গ্রেপ্তারেও অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে ডেভিড ইমন যেন আর জামিনে মুক্ত হয়ে পালাতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।

আজ আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস: বন্ধুত্বের বন্ধনে শান্তি, সম্প্র…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
স্কুল নির্বাচনে বাবা প্রার্থী হওয়ায় ভর্তি বাতিল হলো ছেলের
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
খেজুর নাকি গুড়—ওজন কমাতে কোনটি বেশি উপকারী? জেনে নিন বিশেষ…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
ছিনতাইকালে ধাওয়া খেয়ে যুবকের নদীতে ঝাঁপ, অতঃপর...
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
ঢাবি অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ, ছয় অ…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে বৃষ্টির আভাস
  • ৩০ জুলাই ২০২৬