বেস্ট শর্টস কম্পিটিশন
বেস্ট শর্টস কম্পিটিশনে অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন বাংলাদেশি নির্মাতা সিজু। © টিডিসি ছবি
বাংলাদেশি স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহ নেওয়াজ খান সিজু তাঁর এক শটে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নট আ ফিকশন’ এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বেস্ট শর্টস কম্পিটিশন, ২০২৬ এ ইরানি নির্মাতা ইলহাম খোদাবান্দেহলুর সঙ্গে যৌথভাবে এশিয়ান ফিল্মমেকার অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছবিটির ধারাবাহিক সাফল্যে এটি সিজুর আরও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
এর আগে তিনটি অস্কার ও দুটি কানাডিয়ান স্ক্রিন এওয়ার্ড কোয়ালিফায়িং উৎসবে অফিসিয়াল সিলেকশনসহ ইউরোপের গুরুত্বপূর্ন প্রাগ চলচ্চিত্র উৎসবে বেস্ট সুপার শর্ট ফিল্মের এওয়ার্ড প্রাপ্ত এই ছোট ছবিটি মূলত একটি ঐতিহাসিক দলীল যা গত দুই যুগে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ঘটে যাওয়া অসংখ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলে।
বেস্ট শর্টস কম্পিটিশন -এর এবারের জুরি বোর্ডে ছিলেন এমি মনোনীত Dana S. Scott, Parris Lane এবং Janeshia Adams-Ginyard। তাঁদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পাওয়া এই স্বীকৃতি ‘নট আ ফিকশন’ -এর আন্তর্জাতিক যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সিজুর কাছে সর্বশেষ এই পুরস্কারটি কেবল আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়; বরং সীমিত সামর্থ্য নিয়ে স্বাধীনভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনারও একটি স্বীকৃতি।
সিজু বলেন, ‘নট আ ফিকশন’ প্রায় জিরো বাজেটে বানিয়েছিলাম, কিন্তু গল্পটা নিয়ে আমার উদ্দেশ্য একেবারে পরিষ্কার ছিল। একজন নির্মাতা হিসেবে আমি দেখাতে চেয়েছি, একটা গল্প দর্শকের মনে প্রভাব ফেলতে বড় বাজেটের প্রয়োজন হয় না। ওয়ার্ল্ড সিনেমার ইকুয়েশনে এই ফেস্টিভ্যালটা অত বড় না হলেও এখান থেকে এশিয়ান ফিল্মমেকার অ্যাওয়ার্ড পাওয়াটা আমার জন্য সত্যিই অনেক ইন্সপায়ারিং একটা ব্যাপার। কারণ ছবিটার জার্নি বাংলাদেশের মাটিতে খুব ছোট পরিসরে, ইউনিভার্সিটির বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আড্ডা দিতে দিতে শুরু হয়েছিল।”
নতুন এই স্বীকৃতি সিজুর স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের যাত্রায় আরও একটি সংযোজন। সামাজিক বাস্তবতা ও সমকালীন বাংলাদেশের গল্পকে ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রভাষায় আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার কাজটিই তিনি সামনে এগিয়ে নিতে চান।
শাহ নেওয়াজ খান সিজু বাংলাদেশের একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং থিংক ট্যাংকার্স প্রোডাকশন-এর প্রতিষ্ঠাতা। সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি তাঁর আগ্রহ রয়েছে। সম্প্রতি তিনি সুমাইয়া আরজু মুহুর সাথে যৌথভাবে কথাসাহিত্যিক সাদাত হাসান মান্টোর আলোচিত ছোটগল্প ‘ঠান্ডা গোশত’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’ নির্মাণ করেছেন। এসব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি সমকালীন বাংলাদেশের বাস্তবতাকে চলচ্চিত্রে তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের দর্শকদের কাছেও পৌঁছানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
নির্মাতা সিজুর সঙ্গে নট আ ফিকশনের সহ-প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক সাদিয়া খালিদ রীতি এবং লাইলি বেগম। ছবিটির গল্প এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন মোকাররম রানা। এছাড়া অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছেন উদয়ন রাজীব, নাঈমুল আলম মিশু, ঐশিক সামি আহমেদ, রুদ্রনীল আহমেদ, জাওয়াদ সৌধ এবং মিথুন।