মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ান © সংগৃহীত
হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ানকে। সম্প্রতি দ্য কার্দাশিয়ানসের নতুন সিজনের ট্রেলারে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন তিনি। কিম জানান, তার ইসোফ্যাজাইটিস ধরা পড়েছিল। বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তবে এই অসুস্থতা তাকে ও তার পরিবারকে পুরোনো এক দুঃসহ স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
কিমের বাবা রবার্ট কার্দাশিয়ান সিনিয়র ২০০৩ সালে ৫৯ বছর বয়সে ইসোফেজিয়াল ক্যানসারে মারা যান। ফলে কিমের ইসোফ্যাজাইটিসের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তার ভক্তদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ইসোফ্যাজাইটিস ও খাদ্যনালির ক্যানসার এক রোগ নয়। সাধারণভাবে ইসোফ্যাজাইটিসে আক্রান্ত হওয়া মানেই ক্যানসার হয়েছে এমন নয়।
ট্রেলারে দেখা যায়, হাসপাতালের পোশাকে বিছানায় শুয়ে রয়েছেন কিম। সেখানে তিনি জানান, তার ইসোফ্যাজাইটিস হয়েছে। এরপর এক প্রযোজক তাকে প্রশ্ন করেন, তার বাবার যে রোগ হয়েছিল, তারও কি সেই রোগ হয়েছে? প্রশ্নটি শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কিমের মা ক্রিস জেনার।
ইসোফ্যাজাইটিস কী?
গলা থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত খাবার পৌঁছে দেওয়ার নলকে খাদ্যনালি বা ইসোফেগাস বলা হয়। এই খাদ্যনালির ভেতরের আবরণে প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হলে তাকে ইসোফ্যাজাইটিস বলা হয়।
এই রোগের কয়েকটি ধরন রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো রিফ্লাক্স ইসোফ্যাজাইটিস, যা পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার কারণে হতে পারে।
এ ছাড়া খাবারে অ্যালার্জির কারণে ইওসিনোফিলিক ইসোফ্যাজাইটিস, কিছু ওষুধ খাদ্যনালিতে আটকে গিয়ে ড্রাগ-রিলেটেড ইসোফ্যাজাইটিস এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে ছত্রাক, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে ইনফেকশাস ইসোফ্যাজাইটিস হতে পারে।
যাদের ঝুঁকি বেশি
দীর্ঘদিন অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে ইসোফ্যাজাইটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান, অতিরিক্ত ওজন, রাতে ঘুমানোর আগে ভারী বা তেল-মশলাদার খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্যাফিনযুক্ত বা গরম পানীয় পান করার সঙ্গেও এ রোগের ঝুঁকি সম্পর্কিত।
আরও দেখুন: প্রাইম ব্যাংক পিএলসিতে সিনিয়র ম্যানেজার পদে চাকরি
কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে?
ইসোফ্যাজাইটিস হলে সাধারণত খাবার গিলতে কষ্ট বা ব্যথা হতে পারে, বুকে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হতে পারে, মুখে টক পানি আসতে পারে, বমি বমি ভাব হতে পারে, গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে খাবার খেতে না চাওয়া, বিরক্তি এবং ওজন না বাড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
ইসোফ্যাজাইটিস থেকে কি ক্যানসার হতে পারে?
ইসোফ্যাজাইটিস নিজে ক্যানসার নয়। তবে দীর্ঘদিনের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে খাদ্যনালির কোষে পরিবর্তন হয়ে ব্যারেটস ইসোফেগাস তৈরি হতে পারে। এই অবস্থায় খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তবে ইসোফ্যাজাইটিস থেকে সরাসরি ক্যানসার হয় এমনটা বলা ঠিক নয়। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা জিইআরডি থেকে ব্যারেটস ইসোফেগাস হওয়ার পর ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জাতীয় ডায়াবেটিস ও পরিপাকতন্ত্র এবং কিডনি রোগবিষয়ক ইনস্টিটিউট (এনআইডিডিকে) বলছে, জিইআরডিতে আক্রান্তদের একটি অংশের ব্যারেটস ইসোফেগাস হতে পারে এবং এই অবস্থায় খাদ্যনালির অ্যাডেনোকার্সিনোমার ঝুঁকি বাড়ে।
তবে ব্যারেটস ইসোফেগাস থাকা অধিকাংশ মানুষেরই ক্যানসার হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করলে ঝুঁকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
দীর্ঘদিন ধরে গিলতে সমস্যা, বুক জ্বালা, বমি, অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া কিংবা বমিতে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে এন্ডোস্কোপি ও বায়োপসির মাধ্যমে খাদ্যনালির সমস্যার কারণ ও ধরন নির্ণয় করা হয়। তথ্যসূত্র: ই টাইমস, হিন্দুস্তান টাইমস, এনআইডিডিকে।