চাকরির ইন্টারভিউ © সংগৃহীত
চাকরির ইন্টারভিউতে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পাশাপাশি প্রায় একটি প্রশ্ন করা হয় ‘আপনার ব্যক্তিগত শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে বলুন’। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও নিয়োগকর্তাদের এ ধরনের প্রশ্নে অনেকেই অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। কী বলবেন বুঝে উঠতে পারেন না।
খেয়াল রাখতে হবে এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় শুধু নিজের ভালো দিক তুলে ধরাই যথেষ্ট নয়। নিজের কী কী সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং তা কাটিয়ে উঠতে আপনি কী ধরনের চেষ্টা করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইন্টারভিউয়ের আগে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।
কোন কাজটা আপনি ভালো পারেন?
নিজের উন্নতির জায়গা সম্পর্কে জানতে চাইলে এমন কোনো বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে, যেটি সত্যিই আপনি ভালো পারেন বা উন্নত করার চেষ্টা করছেন। তবে শুধু দুর্বলতার কথা বললে হবে না; সেটি কাটিয়ে উঠতে কী করছেন, সেটিও তুলে ধরতে হবে। যেমন, কারও যদি সবার সামনে কথা বলতে অস্বস্তি হয়, তাহলে তিনি বলতে পারেন আগে বড় দলের সামনে কথা বলতে কিছুটা অস্বস্তি হতো। এখন নিয়মিত উপস্থাপনা ও আলোচনায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি উন্নত করার চেষ্টা করছি। এ ধরনের উত্তরে নিজের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি তা কাটিয়ে ওঠার যে চেষ্টা আপনি করছেন তা প্রকাশ পায়।
পেশাগত চ্যালেঞ্জ কী এবং কীভাবে মোকাবিলা করছেন?
ইন্টারভিউতে নিজের পেশাগত চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে শুধু সমস্যার কথা না বলে সেটি কীভাবে মোকাবিলা করছেন, তা ব্যাখ্যা করলে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
উদাহরণ হিসেবে, সময় ব্যবস্থাপনা কঠিন হলে কীভাবে কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করছেন, নতুন কোনো দক্ষতার প্রয়োজন হলে কীভাবে তা শেখার চেষ্টা করছেন কিংবা চাপের মধ্যে কাজের মান ধরে রাখতে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন এসব বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তুলে ধরা যেতে পারে। একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, সেখানে নিজের নেওয়া পদক্ষেপ এবং তার ফলাফল তুলে ধরলে নিয়োগকর্তারা সন্তুষ্ট হন।
সহকর্মী বা মেন্টর কী বলবেন
আপনার সহকর্মী বা মেন্টর আপনার কোন বিষয়ে কাজ করার পরামর্শ দেবেন? এমন প্রশ্নও ইন্টারভিউতে আসতে পারে। এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এমন একটি উন্নতির জায়গা তুলে ধরা ভালো, যেটি বাস্তব এবং ইতোমধ্যে উন্নত করার চেষ্টা চলছে। যেমন কাজ নিখুঁত করতে গিয়ে কখনো কখনো বেশি সময় নিয়ে ফেলা, একসঙ্গে অনেক কাজ হাতে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দায়িত্ব নেওয়ার প্রবণতা। তবে দুর্বলতার কথা বলার পর কীভাবে সেটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটি অবশ্যই ব্যাখ্যা করা উচিত।
শক্তির কথা বলার সময় কী করবেন
নিজের শক্তির কথা বলার ক্ষেত্রে শুধু আমি পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল বা সময়নিষ্ঠ এ ধরনের সাধারণ বক্তব্য না দিয়ে বাস্তব উদাহরণ দেওয়া ভালো। কোনো একটি কাজ বা পরিস্থিতিতে নিজের দক্ষতা কীভাবে কাজে লেগেছে, সেটি সংক্ষেপে তুলে ধরা যেতে পারে। একই সঙ্গে সেই দক্ষতা প্রতিষ্ঠানের কাজে কীভাবে মূল্য যোগ করতে পারে, সেটিও বোঝানো উচিত।
দুর্বলতার কথা বললে কী এড়িয়ে চলবেন?
দুর্বলতার প্রশ্নে এমন উত্তর দেওয়া ঠিক নয়, যা প্রার্থীর চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আবার নিজের কোনো দুর্বলতাই নেই এমন উত্তরও আত্মসচেতনতার অভাব হিসেবে ধরা পড়তে পারে। তাই নিজের একটি বাস্তব উন্নতির জায়গা বেছে নিয়ে সেটি কাটিয়ে ওঠার জন্য কী করছেন, তা পরিষ্কারভাবে বলার চেষ্টা করবেন।
ইন্টারভিউয়ের আগে যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন
ইন্টারভিউয়ের আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কাজ করে এবং যে পদের জন্য আবেদন করা হয়েছে, সেখানে কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন এসব বিষয় সম্পর্কে আপনি একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা রাখবেন। এই সেক্টর সম্পর্কে কী ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে সেগুলো আগে থেকে অনুশীলন করলে ইন্টারভিউয়ের সময় আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে। তবে উত্তর মুখস্থ না করে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলার প্রস্তুতি নেওয়াই ভালো।
ইন্টারভিউতে নিজের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্নের ভালো উত্তর দেওয়ার মূলমন্ত্র হলো সততা, বাস্তব উদাহরণ এবং নিজের উন্নতির চেষ্টা। শক্তির ক্ষেত্রে দেখাতে হবে, সেটি প্রতিষ্ঠানের জন্য কীভাবে কাজে লাগবে। আর দুর্বলতার ক্ষেত্রে নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতনতা এবং তা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ তুলে ধরতে হবে।