গ্রেপ্তার রিহাদ © সংগৃহীত
জুয়ার টাকা জোগাড় করতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। গত ৫ মে ঝিনাইদহ জেলার সদরের নৃসিংহপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার।
গ্রেপ্তার রিহাদ হাসান (২৩) ঝিনাইদহ সদরের নলডাঙ্গার গড়িয়াল গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় তার নামে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তার কর্মস্থলে অবস্থানকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের পরিচয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান। বার্তায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত দুটি বিকাশ নম্বরে অর্থ পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রতারক চক্র ফোন রিসিভ না করে বার্তার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে।
একপর্যায়ে বাদী সরল বিশ্বাসে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকদের প্রদত্ত বিকাশ নম্বরে ৫৫ হাজার টাকা প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাদী ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে ভাইস চ্যান্সেলর জানান, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড হয়েছে এবং তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি। তখন বাদী নিশ্চিত হন যে তিনি একটি পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
আরও পড়ুন: অ্যাপ বানিয়ে কল ডিটেইলস-ব্যাংক অ্যাকাউন্ট-মামলাসহ সংবেদশনশীল তথ্য বিক্রি করতেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র
মামলার তদন্তে সিআইডির চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের সক্রিয় সদস্য রিহাদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকালে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং মোবাইল ফোনটি পর্যালোচনাকালে অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্রায় ৪০টির মতো অ্যাপসের সক্রিয় উপস্থিতি পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিহাদ স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত জুয়া খেলতেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ জুয়ায় ব্যয় করতেন। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সে সংক্রান্ত তথ্যের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করবে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। সিপিসি বলছে, প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক ও আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।