সেই নীরবের লাশ নিয়ে জন্মদাতা ও সৎ বাবার টানাপোড়েন, সরকারি কবরস্থানে ‘দাফনের সিদ্ধান্ত’

০৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৩২ AM
ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে মারধরে নিহত নীরব আহমেদ

ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে মারধরে নিহত নীরব আহমেদ © ফাইল ছবি

ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে মারধরে নিহত নীরব আহমেদের (২২) লাশ দাফন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। জন্মদাতা ও সৎ বাবার মধ্যে টানাপোড়েনের কারণে শেষ পর্যন্ত নিজ গ্রামে নয়, ঝিনাইদহ সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালু। তার বাড়িতেই জীবনের লম্বা সময় কাটিয়েছেন নীরব।

নীরবের খালু ঝিনাইদহ শহরের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, জীবনের বড় একটি সময় তার বাড়িতেই কাটিয়েছেন নীরব। শৈশবে মা-বাবার বিচ্ছেদের পর থেকেই তিনি আত্মীয়ের আশ্রয়ে বড় হয়েছেন। মৃত্যুর পরও তাকে নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাত্র সাত বছর বয়সে নীরবের বাবা আলিমুর রহমান ও মা মিলি বেগমের বিচ্ছেদ ঘটে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামে আলিমুর রহমানের বাড়ি। পরে মিলি বেগম একই গ্রামের হারুন অর রশীদকে বিয়ে করেন। সেই সময় কিছুদিন মায়ের সঙ্গেই সৎ বাবার বাড়িতে ছিলেন নীরব।

সেখান থেকে পরে তিনি ঝিনাইদহ শহরে খালু আবুল কাশেমের বাড়িতে চলে যান এবং সেখানেই বড় হন ও পড়াশোনা করেন। সৎ মা সাহিদা খাতুন জানান, দীর্ঘ সময় শহরে থাকার কারণে গ্রামে তার আসা-যাওয়া কম ছিল। মাঝেমধ্যে গ্রামে এসে বাবা বা মায়ের সঙ্গে দেখা করে আবার শহরে ফিরে যেতেন তিনি।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে নীরব ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার এক তরুণীকে বিয়ে করেন। তবে প্রায় সাত মাস পর সেই সংসার ভেঙে যায়। এরপর তিনি খালুর বাড়ি ছেড়ে ঝিনাইদহ শহরের একটি মেসে থাকতে শুরু করেন এবং একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সিম বিক্রির কাজ করতেন।

রবিবার নীরবের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তার সৎমা ও ছোট বোন ছাড়া অন্য কোনো স্বজন নেই। বাড়িতে শোকের তেমন কোনো পরিবেশও দেখা যায়নি। প্রতিবেশীরা জানান, গত বছর রমজান মাসে নীরবের মা মিলি বেগম মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি এলাকায় খুব একটা আসতেন না।

আরও পড়ুন: হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের সঙ্গে সাক্ষাতে ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ চেয়েছে বাংলাদেশ

নীরবের সৎ বাবা হারুন অর রশীদ বলেন, নীরব মৃত্যুর আগে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, তাকে যেন তার মায়ের পাশে দাফন করা হয়। সেই ইচ্ছা পূরণের জন্য তিনি লাশ নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তবে জন্মদাতা বাবা আলিমুর রহমানের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে আলিমুর রহমান দাবি করেন, তিনিও ছেলের লাশ নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাকে থাকতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে নীরবের খালু আবুল কাশেম বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে লাশ নিয়ে টানাটানি শুরু হলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঝিনাইদহ সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হবে। বিষয়টি উভয় পক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

নীরব আহমেদ ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

গত শনিবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে গেলে তাকে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলে জানা গেছে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পাম্পের কর্মচারীরা তাকে মারধর করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

লিখিত-ভাইভায় এগিয়েও ‘আউট’, পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগে নম্বর …
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
দেশে ১০ হাজারের বেশি ডায়াগনস্টিক ল্যাব, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত…
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে ভর্তি শুরু: মির্জা …
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদল: ছাত্রদল সেক…
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
বদলি প্রত্যাশী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে টেলিটকের প্রতি খোলা চিঠি
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
আবাসিক হলে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ চায় ছাত্রশিবির, উপা…
  • ০২ আগস্ট ২০২৬